মমতার পক্ষে একজোট ভারতের মোদি-বিরোধীরা

আপডেট: জুন ১, ২০২১, ১:০৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ক্রমেই ভারতের জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী রাজনীতির অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে। কংগ্রেসের তরফে আগেই এই প্রসঙ্গে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এবার এ ইস্যুতে মমতার পক্ষে সরব হয়েছেন দেশটির অন্য বিরোধী দলগুলোও। এক সুরে তাদের অভিযোগ, ভারতের সংবিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপর বারবার আঘাত হানছে মোদি সরকার।
তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের ভাষায়, ‘বিষয়টি আর শুধুমাত্র বাংলার নয়। এটি এখন দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগস্ট মাসে বসবে পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন। সেখানে আমরা আলাদা করে নয়, সব বিরোধী দলই এ নিয়ে আওয়াজ তুলবে।’
তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুরশেখর রায় এ দিন টুইট করেছেন, ‘তিন বছরের জন্য অবসরপ্রাপ্ত মুখ্যসচিবকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোক। মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একজোট হতে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করা হচ্ছে।’
তার ভাষায়, ‘হাম লড়েঙ্গে, হাম জিতেঙ্গে, হাম জিয়েঙ্গে এখন যুদ্ধের ডাক। এই আবেগকে কুর্নিশ জানাই।’ সুখেন্দুবাবুর এই টুইট তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ রিটুইট করে লিখেছেন, ‘সুখেন্দুবাবুর প্রতি সহমর্মিতা রইলো।’
সোমবারও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নর্থ ব্লকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি গিয়েছিল নবান্নে। তারপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে আলাপনকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রের এই আচরণের প্রতিবাদে তিনি দেশের বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী নেতাদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, শুধু ডাক দেওয়াই নয়, তিনি জাতীয় স্তরে বিভিন্ন বিরোধী দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাও বলছেন।
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এসপি-র অখিলেশ সিংহ যাদব, আপ-এর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতাদের। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দফায় দফায় নেতারা যোগাযোগ করছেন তৃণমূলের সঙ্গে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা কেজরিওয়াল এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া কেন্দ্র-রাজ্য লড়াই প্রসঙ্গে টুইটারে বলেছেন, ‘এটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে লড়াই করার সময় নয়। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে করোনাভাইরাস মোকাবিলার করার কথা।’
শিবসেনার রাজ্যসভার উপনেতা প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী টুইট করেছেন, ‘বাংলার বাঘিনী: ১, দিল্লির কাগুজে বাঘ: ০!’
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সময় থেকেই মমতার পাশে রয়েছেন এসপি নেতা অখিলেশ। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে কিরণ্ময় নন্দ জানিয়েছেন ‘এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়। আমরা সম্পূর্ণভাবে এই বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মোদি-শাহের সরকার।’
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মমতা সরকারের সমালোচনা করে থাকেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাকেও বিষয়টি নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল প্রসঙ্গে তিনি সুর কিছুটা নরম করেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
অধীর চৌধুরী বলেন, ‘এআইসিসি এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়ে দিয়েছে, ফলে আমার তো আলাদা করে বলার কিছু নেই। এটুকুই বলতে পারি, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত যোগ্য আমলা। পিএসি সংক্রান্ত বৈঠক করতে কলকাতা গিয়েছিলাম। তিনি দেখা করেছিলেন, কথা বলে আমার ভালো লেগেছে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ