মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব, নিশ্চিত হচ্ছে না মাস্কের ব্যবহার

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


কথা ছিলো সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার। কে শোনে কার কথা! আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার বাসগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার নিয়ে চালক ও যাত্রীদের রয়েছে অবেহলা। যাত্রীদের অনেকের মুখে নেই মাস্ক। আর সামাজিক দূরত্বতার বালাই নেই। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রাজশাহী গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। বাস স্ট্যান্ডের সামনে বাসের শ্রমিকরা ও যাত্রীদের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এছাড়া রাজশাহী থেকে নাওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, চাঁপাইনবাগঞ্জ, পাবনা, যশোরসহ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে সামাজিক দূরত্ব অবহেলা করেই চলছে যাত্রীরা। বাস স্ট্যান্ডের যাত্রীদের চলাফেরা করোনার বিষয়টির গুরুত্ব নেই। দেখা গেছে, দুপুর ২: ৫৯ মিনিটে তালাইলমারি এলাকায় কৌশিক নামের একটি বাসের সিটে পাশাপাশি যাত্রীদের বসতে দেখা গেছে। এছাড়া ভদ্রা মোড়ে বলাকার চালকের মাস্ক থাকলেও নেই সুপার ভাইজারের, এম.কে নামের আরও একটি বাসের চালকের থাকলেও নেই মাস্ক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর দিকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা ও গীতা ও নওগাঁর দিক থেকে আসা শ্যামলী গেট লকের নামের বাসে দেখা যায় চালক মাস্ক পড়ে নেই। এছাড়া চালকের সহকারীর একই অবস্থা। তার মুখমন্ডলে মাস্ক পরিধান না করে গলার মধ্যে জড়িয়ে রেখেছে। ওই বাসটি থেকে নামা যাত্রীদের দেখা যায় কেউ মাস্ক ব্যবহার করছেন। কেউ বা গলার কাছে নামি রেখেছেন।
জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, গাড়িতে মাস্ক পরিনি। গলার কাছে নামিয়ে রেখেছিলাম। তাই আর মনে নেই। এখন সড়কে হাঁটলে মাস্ক দেবো।’ বাসে মাস্ক পড়া নিষেধ আছে নাকি? এমন কথার উত্তরে তিনি জানান, ‘না। তবে গাড়ি রানিং (যাত্রা পথে) থাকলে বাতাস লাগছে। তাই পরিনি।’ সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে একাধিক যাত্রী মনে করেন, নিরাপদ দূরত্ব ততটা মানা হচ্ছে না। কারণ বাসগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি। যদিও বসার আসনের দূরত্ব রয়েছে। তারপরেও অনেকেই পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এছাড়া মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। যাত্রীরা মাস্ক ব্যবহার না করলে তাদের তেমন কিছু বলা হচ্ছে না।
তারা আরও জানান, গাড়িতে ঠিকঠাক জীবাণুনাশকত স্প্রে করা হচ্ছে না। কারণ বাসে উঠলে কোনো আলামত বোঝা যাচ্ছে না। যাদি জীবাণুনাশক স্প্রে করে থাকেল ভালো। না করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে, রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা রুটেও একই অবস্থা। চালকদের মাস্ক গলার কাছে নামিয়ে রাখতে দেখা গেছে। এছাড়া বেশির ভাগ সিটে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার না করতে দেখা যায় নি। অনেকেই বলছেন, তারা একই পরিবারের তাই পাশাপাশি বসছেন। এছাড়া ভদ্রা মোড় এলাকায় অল্পকিছু বাস চালক ও সাপাইভাইজারদের মুখে মাস্ক থাকলেও বেশির ভাগেরই নেই।
এক্ষেত্রে বাসের সুপারভাইজাররা বলছেন, করোনার জন্য সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু তারা শুনছেন না। এছাড়া বাস স্ট্যান্ডে মাইকিংও করা হচ্ছে।
তবে ভিন্নরূপ দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে। বাসগুলোতে দেখা গেছে জিবাণুনাশক স্প্রে করতে। এছাড়া চালক ও সুপারভাইজারদের মাস্ক ব্যবহার করতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া যারা মাস্ক পড়ছেন না, তাদের মাস্ক কিনতে বলা হচ্ছে।
দেশ ট্রাভেলেসের মাস্টার সানাউল্লাহ বলেন, মাস্ক বাধ্যতামূলক। এছাড়া বাসের অর্ধেক টিকি বিক্রি করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্বতার বিষয় খেয়াল রেখে। যাত্রার পূর্বে ও পরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ