মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা তথ্যভাণ্ডার নির্মাণ করছে গ্রামীণফোন

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



একাত্তরের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে ডিজিটাল ভিডিও সংগ্রহশালা ‘একাত্তরের কথা’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলোকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে রাখতে গ্রামীণফোন এই উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর মুনলাইট গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন তাদের এই উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানায়। গ্রামীণফোন জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে রণাঙ্গনের বর্ণনা ভিডিও করার কাজ শুরু করেছে গ্রামীণফোন। ৬৪ জেলায় তাদের ২০টি টিম এই কাজ করছে। সব মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে তৈরি হবে প্রামাণ্যচিত্র। পরে সবগুলো ভিডিও একত্রিত করে অনলাইন ভিডিও সংগ্রহশালা তৈরি করবে গ্রামীণফোন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান। এ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে গ্রামীণফোনের সার্কেল বিজনেস হেড অব রাজশাহী তৌহিদুর রহমান তালুকদার, সার্কেল মার্কেটিং হেড সোহেল মাহমুদ প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, সাংস্কৃতিক কর্মী মনিরা রহমান মিঠি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সেখানে দেশাত্ববোধক গানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি রুহুল আমিন প্রামানিক ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার তাদের একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন। তারা দু’জন একসঙ্গেই যুদ্ধ করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর তাদের দেখা হয় ২১ বছর পর। এসব জানাতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন এই দুই মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলছিলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা সাত নম্বর সেক্টরের চার নম্বর সাব সেক্টরে যুদ্ধ করছিলেন। একদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা পাড়ে পাক বাহিনীর আক্রমণে আহত হন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রমানিকসহ অন্য সহযোদ্ধারা তখন তাকে ভারতের বহরমপুরে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তারপর তাদের দেখা হয় ২১ বছর পর।
বাকি গল্পটা শোনালেন কবি রুহুল আমিন প্রামানিক। ১৯৯২ সালে রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল বই মেলার। কিন্তু মেলা থেকে প্রায়ই বই চুরি হয়ে যাচ্ছিল। তাই তিনি পুলিশ সুপারকে মেলা মাঠে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান। এসপি তখন দায়িত্ব পালনে পাঠান পুলিশ কর্মকর্তা আবদুস সালামকে। মেলায় গিয়েই ভীষণ ক্ষিপ্ত আবদুস সালাম। বলে উঠলেন, ‘বই কেন চুরি করবে! এ জন্যই কী মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম!’
তারপর সেখানেই কথায় কথায় এই দুই মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ঘটেছিল। যদিও সেদিন দু’জন দু’জনের চেহারা মনে ছিল না। শুধু রণাঙ্গনের বর্ণনা করেই তারা দু’জন দু’জনকে চিনেছিলেন। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তারা ভীষণ কেঁদেছিলেন। তাদের আবেগ দেখে সেদিন কেঁদেছিলেন প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদ, কামাল লোহানী ও ইমদাদুল হক মিলনের মতো ব্যক্তিরাও।