মেয়রপদ থেকে অপসারণ হচ্ছে আব্বাস?

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য, কাউন্সিলরদের অনাস্থা প্রকাশ, বিভিন্ন দুর্নীতি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রেক্ষিতে কাটাখালি পৌর মেয়রের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি বিশ^স্ত সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আব্বাস আলী গ্রেফতার হলে মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়া শুরু করে। সূত্রমতে দু’একদিনের মধ্যে অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, কাটাখালী পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন আব্বাস আলী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দেয়া কটূক্তিমূলক বক্তব্য ভাইরাল হলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করেন। এরইপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ উল্লিখিত কর্মকান্ডের জন্য কেন তার (আব্বাসের) বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠান। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মেয়র অব্বাস ঢাকার একটি হোটেলে র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতারের পর মন্ত্রণালয় তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তির প্রেক্ষিতে কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে সকল কাউন্সিলর অনাস্থা প্রকাশ করেন। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারও করা হয়েছে। এরইপ্রেক্ষিতে আব্বাস আলীকে মেয়রের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ডমুমেন্টসহ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগের ‘অনুপ্রবেশকারী’ পৌর মেয়র আব্বাস আলী নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তার ছত্রছায়ায় আপন ভাইদের দিয়ে মাদকের রকরমা বাণিজ্য চলে পুরো পৌর এলাকা জুড়ে। তরুণ ও যুবকদের বিপথগামী করে গড়ে তুলেছেন মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সা¤্রাজ্য। কাটাখালি পৌরসভার দোকানিদের থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি, পশুর হাটের ইজারা, বালু মহল দখল, এলাকাবাসীর জমি দখল, মাসকাটাদিঘি বহুমুখী স্কুলের সভাপতি হয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, স্কুলের জমির জায়গায় দোকান ঘর করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় আব্বাস।

আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ভীত ছিলো সাধারণ জনগণ। সম্প্রতি সরকারি কোনো নিয়ম-নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্মিত খালের উপর তৈরি করেছেন দোকান ঘর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে নিষেধ করার পরও দোকান ঘর তৈরি অব্যাহত রেখে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সড়কে হাট বসিয়ে পৌর রশিদে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা আদায় করে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

টানা পাঁচবছর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উপর বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে ফেলেছিলেন আব্বাস। নিরাপরাধ একাধিক আওয়াম লীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দিয়ে হয়রানিও করে সে।

২০২০ সালের ২৬ আগস্ট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী। কিন্তু তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে তাদের দমিয়ে রাখেন। মনোনয়ন পেয়েই প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি, হামলা, মামলা দিয়ে এলাকা থেকে বিতাড়িতও করে আব্বাস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ