যৌতুক না দেয়ায় মামলা || মামলা তুলে নিতে শ্বশুর বাড়ির হুমকির অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ১১, ২০২০, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

ধামইরহাট প্রতিনিধি:


নওগাঁর ধামইরহাটে স্বামীর চাওয়া ১০ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে গৃহবধূ। হয়েছেন অমানুষিক নির্যাতনের শিকার। স্থানীয়ভাবে দেনদরবার করে স্বামীর সংসারে যেতে যান স্ত্রী শারমিন আক্তার। কিন্তু যৌতুকলোভী স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকদের কারণে মিমাংসা না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। স্বামী এখন জেল হাজতে থাকায় শ্বশুর ও ননদের হুমকি মাথায় নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ওই গৃহবধূ।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, ২০১৯ সালে পরিবারিকভাবে আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের শাহাজাহান আলীর মার্স্টাস পাস মেয়ে মোছা. সারমিন আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে আগ্রাদ্বিগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মমিনের। বিয়ের ৩ মাস পর স্বামী আবদুল মমিন মোটর সাইকেল দাবি করে, না দিতে পারলে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। গরিব বাবা মেয়ের সংসারের কথা ভেবে দেড় লাখ টাকায় ১টি মোটরসাইকেল কিনে দেয়। মাস খানেক পর আবারও স্ত্রী সারমিনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে স্বামী আবদুল মমিন। যৌতুকের এত বড় অঙ্কের টাকা না দিতে পারায় চলতি বছরের ২৯ মার্চ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারপিট করলে পরদিন বাবা শাহাজাহান আলী মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে কোনো প্রকার মিমাংসা না হওয়ায় থানায় মামলা করলে স্কুল শিক্ষক আবদুল মমিন ও শ্বশুর গ্রেফতার হন। স্বামী হাজতে থাকলেও শ্বশুর আব্দুস সাত্তার জামিনে এসে মেয়ে রওশন আরাকে সঙ্গে নিয়ে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ সারমিন জানান, আমার বাবা গরিব হিসেবে ৪ ভরি সোনা ও দেড় লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ করে দিয়েছে আমার সুখের জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ- এমন স্বামী পেয়েছি আমার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করলে নাকি ২৫ লাখ টাকা পাবে তাই আমাকে তাড়াতে এই নির্যাতন।
এ বিষয়ে আগ্রাদ্বিগুন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ জানান, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা হওয়ায় সহকারী শিক্ষক আবদুল মমিনকে ম্যানেজিং কমিটি সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

অভিযুক্ত শ্বশুর আবদুস সাত্তার বলেন, আমাকে যখন জেল খাটতে হয়েছে তাহলে সেই বউকে নিয়ে সংসার করা যাবে কি না ভাবতে হবে। আর আমরা কোনো টাকা পয়সা চাইনি বা হুমকিও কাউকে দেইনি।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, ঘটনার বিষয়ে ধামইরহাট থানায় চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল একটি মামলা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে ১ নম্বর আসামি এখনও হাজতে আছে বাদীকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে নতুন ভাবে একটি জিডি দায়ের করেছে বাদী সারমিন আক্তার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ