রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ শিগগিরই

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। নানা প্রক্রিয়া শেষে রামেবি স্থাপন প্রকল্পের ৬৭.৬৭৯২ একর অধিগ্রহণকৃত জমি সরেজমিনে দখল বুঝে পেয়েছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৪ মার্চ ) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের পক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো মো. জাকির হুসাইন সরদার’র নেতৃত্বে একটি টিম জমি রামেবি’র রেজিস্ট্রার (অ.দা.) মো. জাকির হোসেন খোন্দকার’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ করে বুঝিয়ে দেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ০৭/২২.২৩ নং এলএ কেসভুক্ত রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী জেলার পবা উপজেলাধীন ৭৪ নং বাজে সিলিন্দা মৌজায় ৪৫.৪৭৮৭ একর, ৭৫ নং বারইপাড়া মৌজায় ০.৭৪৯০ একর এবং বোয়ালিয়া থানাধীন ৮২ নং বড়বনগ্রাম মৌজায় ২১.৪৫১৫ একরসহ সর্বমোট ৬৭.৬৭৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করে রামেবি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এরআগে ২০২২ সালের ১৪ জুন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন প্রকল্পের ডি.পি.পি অনুমোদিত হয়েছে। সে সময় ২০১৮ সালের রেট সিডিউল অনুযায়ী ডি.পি.পি’র প্রথম ধাপের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার আটশত সাতষট্টি কোটি আট লক্ষ টাকা ও বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৫৮৬ কোটি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের রেট সিডিউল অনুযায়ী প্রথম ধাপের সংশোধিত ডিপিপির ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার দুইশত সাতান্ন কোটি চুরানব্বই লক্ষ চুরাশি হাজার টাকা।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ খাতের ব্যয় ১৭২ কোটি ১৭ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫৮ কোটি ১৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত-বছর ৯ নভেম্বর একনেক সভায় রামেবি’র সংশোধিত ডি.পি.পি অনুমোদিত হলে ভূমি অধিগ্রহণ খাতের বকেয়া ১৭২ কোটি ১৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট খাতে প্রদান করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ খাতের ব্যয়ের সম্পূর্ণ টাকা জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট খাতে প্রদানের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রামেবি কর্তৃপক্ষকে জমির দখল সরেজমিনে বুঝিয়ে দেয়া হলো।

রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকবে ১২ শো শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। ১০টি চিকিৎসা অনুষদের অধীনে ৬৮টি বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি দেয়া দেয়া হবে এ বিশ^বিদ্যালয়ে। এছাড়া চিকিৎসা সেবার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম চলবে এ বিশ^বিদ্যালয়ে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণসহ বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, স্কুল, ডে-কেয়ার সেন্টার, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, ভিসির বাংলো, ডাক্তার ও নার্সিং হোস্টেল, মরচুয়ারি ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২১টি ভবন নির্মাণ করা হবে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম মোস্তাক হোসেন বলেন, আমি উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েই একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের ডিপিপি তৈরিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই। এর ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল ডিপিপি ও পরবর্তীতে সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজশাহী, রংপুর সরকারি-বেসরকারি ৬৯টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের এমবিবিএস, বিডিএস, ফিজিওথেরাপি ও ইউনানি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি, বিএসসি নার্সিং এবং মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এসব কোর্সের শিক্ষার্থী নিবন্ধন, পরীক্ষার ফরম পূরণ, ফলাফল তৈরিসহ সব ধরণের ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকেই পরীক্ষার খাতা কোডিং-ডিকোডিং করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে জানান ভিসি।

উল্লেখ্য, এ সময় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) প্রক্রিয়রমেন্ট কনসালটেন্ট রেয়াজাত হোসেন, সহকারি রেজিস্ট্রার (চ.দা.) রাশেদ হোসেন, সহকারী কলেজ পরিদর্শক (চ.দা.) নাজমুল হোসাইন, লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার ইসমাঈল হোসেন, জনসংযোগ দপ্তরের সেকশন অফিসার জামাল উদ্দীন, রামেবি-স্থাপন প্রকল্প’র সেকশন-অফিসার রেজাউল উদ্দিন, প্রশাসনিক-কর্মকর্তা আরাফ হোসেন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নূর রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ