রাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চাহিদা থাকলেও শিক্ষক নিয়োগে বাধা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককের বাধা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাহিদা থাকলেও শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বিভাগের শিক্ষকদের কয়েকটি ফাঁকা পদ পূরণ হচ্ছে না। বিভাগে শিক্ষক চাহিদা পূরণে দুইবার প্ল্যানিং কমিটির সভায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচ্যসূচি থাকলেও তা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার প্ল্যানিং কমিটির সভা ডাকা হলেও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক সভার চিঠি গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও বিভিন্নভাবে বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্লানিং কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এই সময়ে শিক্ষক নিয়োগ হলে পছন্দের লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তারা বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পবিার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর কয়েকদিন আগে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জিন্নাত আরা বেগম কমিটির সদস্যদের কাছে সভার চিঠি পাঠান। তবে প্ল্যানিং কমিটির পাঁচজন সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন ওই চিঠি গ্রহণ করেন। একমাত্র চিঠি গ্রহণকারী ড. সাইফুল ইসলাম বিভাগের সাবেক সভাপতি। সভার জন্য চিঠিগ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক শেখ ম. নূরউল্লাহ, অধ্যাপক ড. এএনএম জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ড. জাফর সাদিক ও অধ্যাপক ড. অহিদুল ইসলাম। এদের মধ্যে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। বাকি তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজপন্থি শিক্ষক।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এর আগেও বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির এই সদস্যদের আপত্তির মুখে কয়েকবার বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আলোচ্যসূচি থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একজন শিক্ষক জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সভায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি উঠলেও আলোচ্যসূচি থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে গত ৮ মে প্ল্যানিং কমিটির সভায় একই বিষয় আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষকের আপত্তির মুখে তা আবারো প্রত্যাহারের করা হয়। ফলে ওই বিভাগে চাহিদা থাকলেও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ঝুলে আছে। এর আগে বিভাগটিতে সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি। এরপর দীর্ঘ সাত বছরেও স্থায়ী পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ৭টি স্থায়ী, শিক্ষা ছুটির বিপরীতে দুইটি ও লিয়েনে ছুটির বিপরীতে একটি পদ শূন্য হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১৭ জন শিক্ষককে দিয়ে বিভাগের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে শিক্ষক নিয়োগ হলে পছন্দের লোক নিয়োগ না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ওই শিক্ষকরা এখন শিক্ষক নিয়োগে বাধার সৃষ্টি করছেন। শিক্ষক নিয়োগে একচ্ছত্র আধিপত্য রাখতে এ মুহূর্তে তারা নিয়োগ চাচ্ছেন না। তারা নিয়োগ ঠেকাতে সবধরনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকদিন শিক্ষক সংকট থাকায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক জাফর সাদিক বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জিন্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। এগুলো বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয় নি। বিভাগের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি জানানো হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’