লালপুরে প্রশ্নপত্র ছাপাচ্ছেন শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীদের কাছে ৫০ টাকায় বিক্রি!

আপডেট: মে ২৫, ২০২৪, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুরে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা অমান্য করে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে শিক্ষার্থী প্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের জন্য নির্দেশনা দেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী। এতে বলা হয় প্রত্যেক বিদ্যালয় নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূদ্রণ করে পরিক্ষা গ্রহণ করবে। এবং এর জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে কোন টাকা নেওয়া যাবে না।

তবে এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূদ্রণ করা হয়েছে। আর প্রতি সেট প্রশ্নের জন্য ১২ টাকা করে নিয়েছে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম। আবার সেই প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ টাকা করে নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া প্রশ্নের আকারে রয়েছে ভিন্নতা। প্রশ্নভেদে লেখার সাইজ ছোট করা হয়েছে। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লের শিক্ষার্থী সামিউল আলম বলেন, প্রশ্নে শব্দের অক্ষরগুলো ছোট হওয়ায় পড়তে কষ্ট হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বলেন, প্রশ্নপত্রের জন্য ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। একেক শিক্ষক একেক রকম কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছে।

এবিষয়ে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন করে মূদ্রণ করা হয় নি। প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মডারেশন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক প্রশ্নপত্র সরবারহ করা হচ্ছে। তবে প্রশ্নপত্রের জন্য কোন শিক্ষার্থীর থেকে টাকা নেওয়া হয় নি।

উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন, নির্দেশনা মতে আমরা উপজেলা থেকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের প্রশ্ন প্রণয়ন করে বিদ্যালয়ে সরবারহ করেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিস, ক্লাস্টার বা বিদ্যালয়গুলোও এই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারবে। আর টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কোন শিক্ষার্থীর থেকে টাকা নেওয়া হলে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ