শিবগঞ্জে ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন বাড়িঘর-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা

আপডেট: আগস্ট ২, ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিবগঞ্জে বেশ কয়েকদিন থেকে পদ্মা-মহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী দূর্লভপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর, মনোহরপুর, নামোজগন্নাথপুর, আইউব বিশ^াসপাড়া, দোভাগী সহ কয়েকটি পয়েন্টের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে।
পদ্মা-মহানন্দা নদীর ভাঙন ঠেকাতে এখন-ই প্রয়োজন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সঠিকস্থানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সচেতন মহল, এলাকার ভূক্তভোগীদের।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের তরফা ঘাট এলাকায় মহানন্দা নদীতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সে এলাকায় ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আলাতুলি এলাকার রক্ষা প্রকল্প বাঁধ এর শেষ অংশ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ বছরে প্রায় ৮ কিলোমিটার নদী ভেঙেছে এই এলাকায়। বর্তমানে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে। প্রায় ৫০০ গজের মধ্যে নদী চলে এসেছে। নদী ভাঙনের ফলে ৬টি প্রতিষ্ঠান নদীর ঠিক প্রায় ৫০০ মিটার দুরে অবস্থান করছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সবই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে রয়েছে, চর জগনাথপুর কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা, বাদশা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরহাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ওই এলাকার কয়েক শতাধিক বাড়ি-ঘর রয়েছে চরম হুমকির মূখে।
দূর্লভপুর গ্রামের নাজমুল হাসান নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আমাদের এলাকায় নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিগত দিনে চরজগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরহাসানপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বহু বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এখনই নদী ভাঙন ঠেকাতে না পারলে পূনরায় সব বিলীন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু জানান, দুর্লভপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের পদ্মা নদীতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আমি এবিষয়ে পরিষদ চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও দরখাস্ত দিয়ে জানিয়েছি। যেন নদী ভাঙন ঠেকাতে ও স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করে দেন। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একবার এসে মাফযোগ করে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন কাজ বা নদী ভাঙন ঠেকাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, নদী ভাঙন বিষয়ে বিস্তারিত জেনে জানাবেন বলে জানানো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ