সাপাহারে সকল জাতের আম ২ টাকা কেজি

আপডেট: মে ২০, ২০২২, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ


তোফায়েল আহমেদ সাপাহার নওগাঁ (প্রতিনিধি):


আমের বাণিজ্যিক এলাকা নওগাঁর জেলার সাপাহারে ২-৩টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে। সাপাহার উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাতে হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক বাগানের আম ঝরে পড়েছে। এসব আম কম দামে কিনে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাপাহার সদরে ভ্যানে করে বাগান মালিকগন আম বিক্রি করতে এসেছে। আড়তদারগন সেই আম কম দামে কিনে বস্তাভর্তি করে আড়তে নিচ্ছে। তারপর সেগুলোকে পাঠানো হবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বলে জানা যায়।

ঝড়ে পড়া আমের সিংহভাগই অপরিপক্ব। ছোট ও মাঝারি সাইজের এসব অপরিপক্ব আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০টাকা বস্তা টাকা দরে। অর্থাৎ এক বস্তায় প্রায় ৬০-৬৫কেজি আম ধরে বলে জানা যায়। গ্রামের নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীর কুড়ানো এসব আম পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে আড়তে নিচ্ছেন। পরে আড়ত থেকে ট্রাকযোগে এসব আম যাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সদর উপজেলার আম বাজারে গ্রাম থেকে আসা আম কিনে জড়ো করা হয়েছে।
আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি হয়। এ সময় গাছ থেকে অনেক অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ে। এসব আম গ্রামের মানুষজন কুড়িয়ে ২-৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে।

উপজেলার কুচিন্দা গ্রামের আমচাষি হৃদয় বাবু বলেন, প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন। এসব গাছে ঝুলছে ল্যাংড়া ,আম্রপালি, বারি-৪, ক্ষিরসাপাতসহ বিভিন্ন জাতের আম। হঠাৎ বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় হয়। এতে অনেক আম পড়ে নষ্ট হয়। এসব আম গ্রামের অনেকেই কুড়িয়ে ২-৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে।

পাইকারী ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে পড়া আম তেমন কাজে লাগে না। তাছাড়া আমগুলো পরিপক্ব নয়। তাই আচার করেন অনেকেই। তবে অনেক বেশি আম হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়। আমরাও কম দামে এসব আম পাই। পরে এগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকে করে পাঠিয়ে দেই। ঢাকায় এসব আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী মোদাচ্ছের বলেন, ঝড়ে পড়া আমে দাগ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বেশির ভাগ সময় আম পরিপক্ব থাকলে তা জুস ফ্যাক্টরিতে চলে যায়। আবার এইসব আম দিয়ে আচারও করা হয়। তাই কম দামে কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেই।

সাপাহার কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, সোমবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। তবে আমের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ঝড়ে আম ও লিচুর অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক অপরিপক্ব আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। এসব আম তেমন কোনো কাজে না আসায় কম দামে বিক্রি হয়।