সাবধান বাজারে ভেজাল প্রসাধনী!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ৬:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাজারে মিলছে ভেজাল প্রসাধনী। সম্প্রতি রাজশাহীতে বেশিকিছু ভেজাল প্রসাধনীর কারখানায় হানা দিে ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় বিভিন্ন ব্যান্ডের ভেজাল প্রসাধনী ও প্রসাধনী তৈরির যন্ত্রপাতি-উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। চলতি বছরে ভেজাল প্রসাধনীর কারখানায় পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৭ জন গ্রেফতার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব প্রসাধনী বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জে বেশি বাজারজাত করা হয়। অপেক্ষাকৃত সস্তা হওয়ায় গ্রামের নারী নির্দ্বিধায় ওইসব প্রসাধনী কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্কিন বিশেষজ্ঞ ড. ইব্রাহীম মো. শরফ বলেন, ভেজাল প্রসাধনীতে বেশিমাত্রার রাসায়নিক প্রয়োগ হয়ে থাকে। ফলে মানবদেহে ক্যানসার, অ্যালার্জি, ত্বকের প্রদাহ, স্কিন জ্বালা পোড়া, লাল হয়ে যাওয়া। আর শিশুদের জন্য এসব প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরো বেশি মারাত্মক হয়ে থাকে।’

স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে- গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর শালবাগান এলাকায় ‘সজুকার মার্কেটিং অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশান’ নামের একটি ভুয়া কোম্পানি থেকে ভেজাল প্রসাধনী জব্দ করে পুলিশ। এসময় কোম্পানির জিএম মো. এহেসানুল হক সোহেলকে (৩৬) গ্রেফতার করে। এহেসানুল কুষ্টিয়া জেলার খোকশা থানার কমলাপুর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের আ. হান্নানের ছেলে।

চলতি বছর ২৮ এপ্রিল নগরের সাগরপাড়ায় নকল প্রসাধনী জব্দসহ প্রস্তুতকারক সওকত আলীকে (৩৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কয়ড়া সরাতলা এলাকার আওয়াল আলী খন্দকারের ছেলে। গ্রেফতারকৃতের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছিল- নগর ও বাইরের বিভিন্ন বিউটি পার্লার, জেন্টস পার্লার, সেলুন ও কসমেটিক্সের দোকানে সরবারহ করেন এই নকল প্রসাধনীগুলো। এসময় চার লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যে নকল প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়।

৩ সেপ্টেম্বর পুঠিয়ার পশ্চিমকান্দ্রা গ্রামে নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে নকল লতা হারবাল স্ক্রিন স্পট ক্রিম, বিভিন্ন কোম্পানীর বডি লোশন, নামিদামি কোম্পানীর প্রসাধনী তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করে।
এর ছয়দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর পুঠিয়ায় তিনটি নকল প্রসাধনীর কারখানায় র‌্যাব-৫ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এসময় তিনজনকে জরিমানা করে। এরা হলেন- পুঠিয়া পালোপাড়ার হাসমতের ছেলে মহিউদ্দিন কাজলকে ৫০ হাজার টাকা, কৃষ্ণপুরের হাসানের ছেলে সৈয়দ হাফিজুলকে ৩ হাজার টাকা, একই এলাকার জলিল শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলার দুর্গাপুরে নকল প্রসাধনী সামগ্রীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিশ্বজিৎ সরকার (২৮) ও বিপ্লব সরকারকে (২৫) গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তারা জয়কৃজষ্ণপুর এলাকার বলাই সরকারের ছেলে। এসময় একটি ভেজাল ক্রিম তৈরির মেশিন, একটি হিট মেশিন, একটি ক্লিপ ও একটি টাইট মেশিন, ৩০টি কাগজের প্যাকেটে ১৮০টি ভেজাল ক্রিম কোটা। ৪৮টি ভেজাল ক্রিম, নকল লতা হারবালের কাগজ, খালি কোটা দুই বস্তা, তরল কেমিক্যাল, দুটি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানায়, দুর্গাপুরে গ্রেফতারকৃতরা প্রায় একবছর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের টার্গেট প্রত্যন্ত এলাকায় বাজারজাত করা। তারা রাজশাহী ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালে এই নকল প্রসাধনী পাঠাতো। তিনি আরো জানান- আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে। এসকল ভেজারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

রাজশাহী ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানান, পণ্য কেনার সময় দেখে কিনতে হবে। সাধারণত আমরা যে প্রসাধনী ব্যবহার করি সেটাতেই থাকা উচিত। না জেনে, না বুঝে নতুন পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। তিনি বলেন- আসল ও নকল পণ্য মোড়ক ও ভেতরে দেখতে এক নয়। একটু ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যাবে, আসল নাকি নকল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ