সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা-সোনার দেশ

সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির রাজশাহী জেলা শাখা।
বেলা ১১টার দিকে নগরীর শাহমখদুম কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ফ্রন্টের জেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা।
বাদশা বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তালিকা প্রণয়নে অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাচীন প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন প্রতিষ্ঠান এবং ভালো ফলাফলকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বিপরীত ধারার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা সুনির্দিষ্ট, প্রকাশ্য নীতিমালার ভিত্তিতে স্কুুল-কলেজ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের এক শতাংশেরও কম ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা, যথাযথভাবে পাঠদান না করে বাণিজ্যিক কোচিং এবং প্রাইভেট টিউশনিসহ নানা অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত। তাদের অপকর্মের দায় শিক্ষক সমাজ নিতে পারে না। তাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে শিক্ষকতা পেশা থেকেও বহিষ্কার করা হোক।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি, টাইম স্কেল, পাঁচ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ পেনসন, পূর্ণ উৎসব ও বৈশাখী ভাতা, এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকদের এমপিও প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ‘অনভিপ্রেত’হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের চাঁদা কর্তনের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনারও দাবি জানানো হয়।
শিক্ষাখাতে সৃষ্ট নানা সমস্যা সমাধানে সরকারকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবও দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক নেতারা। এছাড়া আগামী রোববার প্রতিটি উপজেলা সদরে মিছিল এবং ৩০ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়।
দাবি বাস্তবায়নে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন শিক্ষকরা। এরপর কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলেও ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফ্রন্টের যুগ্মআহ্বায়ক অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকার, আব্দুল বারি ও অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান, অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, এসএম রেজাউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম সুলতান, মজিবুর রহমান, মো. শাহাবুদ্দিন, আব্দুল মুমিন প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ