সুর তুলে বাঁশি বিক্রি করেন গণেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

মানিক হোসেন:


দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার। আর বাঁশি ছাড়া বাদ্যযন্ত্রের সুরের মিতালি পূর্ণতা পায় না। তবে অন্য বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ ছাড়াও শুধু বাঁশি বাজিয়েই মুগ্ধতা ছড়ানো সুর তৈরি সম্ভব। আর এই সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েই রাজশাহীর পথে প্রান্তরে ৪৫ বছর ধরে বাঁশি বিক্রি করে বেড়াচেছন শ্রী গণেশ চন্দ্র দাশ।

শ্রী গণেশ চন্দ্র দাশ জানান, তার বয়স এখন ৬৫ বছর। ৪৫ বছর ধরে বাঁশি বাজানো, তৈরি ও বিক্রিতে রয়েছেন। এটাই তার জীবিকার মাধ্যম। ৪৫ বছর আগে কাঁচা কলা কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। আর এটাই ছিল প্রথম পেশা। সেই সময় পুঠিয়ার রায়ের মেলায় বাঁশি বাজিয়ে কলা বিক্রি করছিলেন। এমন সময় কাশেম মোল্লা নামের এক বাঁশিওয়ালা এসে ২ টাকা দরে ৩০০ টি বাঁশি ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কলার ব্যবসা করা লাগবে না।

বাঁশি বানিয়ে, ঘুরে ঘুরে বাঁজিয়ে মানুষের মাঝে বিক্রি করলেই ভালো আয় সম্ভব। সেই বাঁশিগুলো তাহেরপুর হাটে গিয়ে, হকারের অনুরোধে মাইকে বাজালেন। আশ্চর্যজনকভাবে নিমিষেই বাঁশিগুলো ২০ টাকা পিস দরে বিক্রি হয়ে যায়। ৬০০ টাকায় কিনে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি দেখে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাঁশি বিক্রির ব্যবসা। ৪০ বছর আগে খুব ভালো করে বাঁশি বানানো শেখেন ওস্তাদ খলিলের কাছে। ৩৮ বছর আগে গুরু শ্রী কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মাচারীর কাছে বাঁশি বাঁজানো শেখেন।

তিনি আরও জানান, পুঠিয়া দুদুর মোড়ে তার বাড়ি। বাবা শ্রী নিতাই চন্দ্র দাস ২৫ বছর আগে মারা গেছেন। মা শ্রীমতি সবিতা রানী দাস। মায়ের বয়স ৯৬ বছর। ৫ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় গণেশ। তার স্ত্রী শ্রীমান রিনা বালা রানী ব্লাড ক্যান্সারে ১৩ বছর আগে মারা গেছেন। সন্তানদের মধ্যে দুই ছেলে রাজমিস্ত্রী ও বারো ভাঁজার দোকান নিয়ে ব্যবসা করছেন। বিয়ে করে সন্তানরা আলাদা। এখন বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গেই তার সংসার।

তিনি আরও জানান, ছয় মাস সময় নিয়ে তিনি বাঁশি বানান। প্রতিবছরের শুরুতে তিনি ১ লাখ টাকার বাঁশ কেনেন। বাঁশগুলো পানিতে রাখা, কাঁদা লাগানো, রোদে শুকানো, পরিমাণ মত কাটা, ছিদ্র করা, সিরিজ কাগজ দিয়ে মসৃণ করা, সরিষার ফুলের রং দেয়া, মেশিনে দেয়া, কয়লায় পুড়িয়ে নকশা করাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মাধ্যমে বাঁশি তৈরির কাজ শেষ করেন তিনি। বাঁশিগুলোতে বাড়তি গোপন ২ টি ছিদ্রসহ ১১ টি ছিদ্র থাকে। তার তৈরি বাঁশিগুলো ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অনেক সময় হেঁটে হেঁটে খুচরা বিক্রির সাথে সাথে পাইকারিও বিক্রি করেন। বছরে আনুমানিক ১ লাখ টাকা খরচ করে ৫ লক্ষ টাকা আয় হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ