সোনামসজিদ স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড়শ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ


দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বেড়েই চলেছে রাজস্ব আদায়। গত অর্থবছরে এ স্থলবন্দরটিতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫১৫ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বেশি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। শতকরা হিসাবে ৩৯ দশমিক ৭৯ ভাগ বেশি।
সোনাসমজিদ স্থল শুল্ক স্টেশন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই/১৬ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৪৮ লাখ সাত হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত তিন কোটি ৯৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। আগষ্ট/১৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৫৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে ৩২ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর/১৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায়  হয়েছে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। শতকরা ৬২ দশমিক ৫৯ ভাগ বেশি। অক্টোবর/১৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ কোটি ৬২ লাখ এক হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪২ কোটি ২৫ লাখ সাত হাজার টাকা। বেশি আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ছয় হাজার টাকা। শতকরা হিসাবে ৪২ দশমিক ৬৪ভাগ বেশি। নভেম্বর/১৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ কোটি ৪২ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪৭ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ঘাটতি হয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ডিসেম্বর/১৬ মাসে ৫১ কোটি ৫০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪১ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ঘাটতি হয়েছে ১০ কোটি  ২০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। জানুয়ারি/১৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি ৯০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ঘাটতি হয়েছে দুই কোটি ৭১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারি/১৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে  ৬১ কোটি ৮ লাখ ৪ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে ২১ কোটি ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা। মার্চ/১৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৫৭ কোটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এপ্রিল/১৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ কোটি ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৪০ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে  ১৯ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা। মে/ ১৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ কোটি ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ২৭ কোটি ১৮ লাখ ২৭ হাজারা টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। জুন/১৭মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত আদায় হয়েছে ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে  ৫১৫ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বেশি। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩১ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। আদায় হয়েছিল  ৫৩২ কোটি ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ঘাটতি ছিল ২৯৯ কোটি ২১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাথরের প্রয়োজনে ভারত থেকে প্রচুর পাথর আমদানি হওয়ায় রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ৩০ বছর ধরে সোনামসজিদ ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২৫.৬২ নম্বর কোর্ডের শিলবাটা আমদানি হতো। এটি ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার সোনামসজিদ বন্দর কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দিয়ে ২৬.০২ নম্বর কোর্ডের শিলবাটা আমদানি করতে বাধ্য করছে। যেখান থেকে আমদানিকারকদের কোন লাভ হয় না। কিন্তু রাজস্ব আদায় বেশি হচ্ছে। আর রাজস্ব বেশি আদায় হলেই ধরা যাবে না বন্দরের অবস্থা খুব ভালো বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের রাজস্ব বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, আমরা অর্থবছরের প্রথম দিকে একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করি। কোন মাসে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক কম প্রবেশ করলে রাজস্ব কম আদায় হয়। আবার কোন মাসে পণ্যবাহী ট্রাক বেশি প্রবেশ করলে রাজস্ব বেশি আদায় হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূর্বের চেয়ে পণ্যবাহী ট্রাক কম আসলেও রাজস্ব বেশি আদায় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। তাই রাজস্ব আদায় দিন দিন বেশি হচ্ছে এবং আগামীতে আরো বেশি রাজস্ব আদায় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ