সোনার মেয়েদের স্বর্ণালি আনন্দভ্রমণ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


সবশেষ রাজপথে কবে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে, স্মৃতি হাতড়ে বের করা কঠিন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বাফুফে ভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অনেক স্থানে হাজারও উৎসুক মানুষের ভিড়। কারও হাতে লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে, কেউবা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। সবাই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন প্রিয় খেলোয়াড়দের এক পলক দেখতে। প্রচন্ড গরমেও উৎসাহে কমতি ছিল না। আর এই ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন সাবিনারা একটু অন্যভাবে। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি নিয়ে ছাদখোলা বাসে করে সাবিনা-সানজিদারা শহর প্রদক্ষিণ করে ফুটবলপ্রেমীদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। এই দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিরল!

সাবিনা-স্বপ্নারা আগেও বয়সভিত্তিক ফুটবলের ট্রফি জিতেছেন। দেশে কিংবা দেশের বাইরে। কিন্তু কখনোই এমন অভূতপূর্ব দৃশ্যের মুখোমুখি হননি। আগে গ্যালারি কিংবা মাঠ থেকে বের হয়ে আসার সময় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবার বাধভাঙ্গা উল্লাস। বল্গাহীন আনন্দ। আগের সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। অনন্য অর্জনে উৎসবে মেতেছে সবাই।

আগে কখনও সাবিনারা পাননি হাজারও মানুষের এমন উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসা। বেলা বাড়তেই বিমানবন্দরে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। আর সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের জনাকীর্ণ উপস্থিতি তো ছিলই। তখনও ছাদখোলা বাসটি আসেনি। বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দেশের মাটি স্পর্শ করার পরই বিমানের ভেতরেই কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে মুহূর্তটি।

ভিআইপি লাউঞ্জে তখন ঘোষক বারবার সাফজয়ী চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন বার্তা দিচ্ছিলেন। মিষ্টিমুখ করে ভিড়ের কারণে সাবিনারা লাউঞ্জে কোনোমতে আসতে পারলেও পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হতে পারেনি। সেখান থেকে ভিড় এড়িয়ে তাদের অন্য পাশে নেওয়া হয়। এর বেশ কিছু সময় পর লাউঞ্জের বাইরে মিনিট কয়েকের জন্য নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়ে গেছেন সাবিনা-ছোটনরা।

বাইরে তখন খোলা ছাদের বাসটি অপেক্ষায় ছিল তাদের বরণ করে নিতে। আর সামনেই বাদ্য-বাজনা বাজছিল। বাসে ওঠার আগে ফুলের বৃষ্টিতে ভিজেছেন সবাই। নিরাপত্তা কর্মীদের বেষ্টনি ঘিরে সাবিনাদের বাস ততক্ষণে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।

বিমানবন্দরের বাইরে তখন ভিড় ঢেলে এগিয়ে যাওয়ার পালা। খোলা বাসের একদম সামনে অধিনায়ক সাবিনা। হাতে ট্রফি। তার পাশে সানজিদা আক্তার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাশুরা পারভীনসহ অন্যরা। কোনও সময় ট্রফি ধরে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন সাবিনা, আবার ক্রীড়াপ্রেমীদের অভিবাধনেরও জবাব দিতে গেছে তাকেসহ অন্যদের। সাফজয়ী ছবি সম্বলিত ব্যান্ডিং করা বাসটিতে চড়ে বসেন ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রীসহ বাফুফের কর্মকর্তারাও। রাস্তার দুপাশে তখন মানুষজনের ভিড় ছিল দেখার মতো।

বিমানবন্দর থেকে বিজয়ীদের বাস কাকলী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, বিজয় সরণী ফ্লাইওভার, তেজগাঁও পেরিয়ে মগবাজার-মৌচাক-কাকরাইল-ফকিরাপুল-মতিঝিল হয়ে পৌঁছায় বাফুফে ভবনে। ততক্ষণে সূর্যের আলো নিভে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। কয়েক ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিতে দুধারে প্রচুর মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছে ফুটবল দল।

শেষটাও কম জমকালো হয়নি। বাফুফে ভবনে তখনও অনেক মানুষ। অধীর অপেক্ষা। সেখানে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ছাড়াও অন্যরা তাদের রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিয়েছেন। নিজের ঢেরাতে ফেরার অন্যরকম আনন্দ। এই দীর্ঘ যাত্রায় সাবিনাদের ক্লান্ত মনে হলেও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সবকিছুই যে বৃষ্টির পরশের মতো উবে গেছে। সবার হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসায় সিক্ত সাবিনা-সানজিদারা।

বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন- সোনার মেয়েদের স্বর্ণালি আনন্দভ্রমণ!
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ