স্বল্প খরচে ঢাকায় যাবে কৃষকের পণ্য || ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের যাত্রার উদ্বোধন করলেন লিটন

আপডেট: জুন ৫, ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের যাত্রার উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন- সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে’র অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ট্রেনটি চাঁপাই থেকে রাজশাহী হয়ে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৫:৫০ মিনিটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, এ ট্রেনের ফলে কমবে আম পরিবহনের খরচ। স্থীতিশীল থাকবে বাজার। পরিবহন খরচ কমলে এমনিতেই দামও কমবে। এতে উপকৃত হবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি বিকেল চারটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এক হাজার কেজি (২৫ মণ) আম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পথে রাজশাহী স্টেশনে ট্রেনে আম উঠানোর জন্য যাত্রা বিরতি করে। এই স্টেশন থেকে ২৬শ কেজি আম, সারদা স্টেশন থেকে ৫০০ কেজি, আড়ানী স্টেশন থেকে ২২৯ কেজি, আমনুরা স্টেশন থেকে ১ হাজার কেজি, কাঁকনহাট স্টেশন থেকে ৪০০ কেজি আম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এছাড়া ৩৬টি কার্টুন ও টুকরি লিচু ট্রেনে তোলা হয়।
এর আগে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটির উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিকেল ৫: ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশেষ পার্সেল এই ট্রেনের যাত্রার উদ্বোধন করেন মেয়র।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, উৎপাদনকারীরা যাতে ভালো দাম পান এবং ঢাকাবাসী যাতে ভালো আম খেতে পারেন সেজন্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আম ছাড়াও সব ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, ডিমসহ কৃষিজাতপণ্য ঢাকায় স্বল্প খরচে নিয়ে যেতে পারবেন কৃষকেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করে আসছে। এই ট্রেনের চাহিদা বজায় থাকলে আম মৌসুম ছাড়াও স্থায়ীভাবে চলাচল করার ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ, সিওপিএম শহিদুল ইসলাম, সিসিএম আহসান উল্লাহ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, রাজশাহী রেলওয়ে শ্রমিকলীগ আরবিআর সদর দফতর শাখার সভাপতি মোতাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, ওপেন লাইন শাখার সভাপতি জহুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম আক্তার হোসেন প্রমুখ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সূত্র জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যখন ঢাকা যাবে তখন ট্রেনটির নাম হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-২’। আর ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফেরার পথে নাম হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-১’। ট্রেনটি সপ্তাহে প্রতিদিন চলাচল করবে। প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে আসবে। রাজশাহী রেলস্টেশনে পৌঁছাবে ৫: ২০ মিনিটে। এখানে ৩০ মিনিট বিরতি দেবে। পরে বিকেল ৫:৫০ মিনিটে ট্রেনটি আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১টায়। ঢাকা থেকে ট্রেনটি রাত ২:১৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে। রাজশাহী পৌঁছাবে সকাল ৮:৩৫ মিনিটে। এখানে ২০ মিনিট থেমে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পৌঁছাবে সকাল ১০:১৫ মিনিটে। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটিতে মোট ছয়টি ওয়াগন (মালগাড়ি) থাকবে। প্রতিটি ওয়াগনে ৪৫ হাজার কেজি আম পরিবহন করা যাবে। আম ছাড়াও সব ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, ডিমসহ কৃষিজাত পণ্য রেলওয়ের আইনে পার্সেল হিসেবে বহনযোগ্য- সব ধরনের মালামাল বহন করা হবে। ট্রেনটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এক কেজি আমের ভাড়া লাগবে এক টাকা ৩০ পয়সা। আর রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও বা কমলাপুর রেলস্টেশনে পরিবহন করতে খরচ পড়বে ১ টাকা ১৮ পয়সা। এছাড়া নিয়মানুযায়ী ট্রেন ছাড়ার আগে যে কেউ তাদের মালামাল বুকিং দিতে পারবেন।
রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক জানান, তিনি ঢাকায় ৬০০ কেজি পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ ১৫ মণ। সব আম কমলাপুর স্টেশনে নামবে। খরচের বিষয়ে তিনি জানান, কুরিয়ার ও পরিবহনের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম খরচে আম ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ জানান, আমরা চাচ্ছি, এই ট্রেনের সার্ভিসটি চালু থাকুক। রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর, ফল ও সবজি উৎপাদন হয়। এই ট্রেনে ফল ও সবজি ঢাকায় কম খরচে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে করে কুরিয়ার ও পরিবহণ খরচ অনেক কমে যাবে।
তিনি জানান, অনেক সময় দেখা যায় রাজশাহীতে ৪০ টাকা কেজি আম হলে সেটি ঢাকায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কারণ কুরিয়ার ও পরিবহন খরচের কারণে দামটা বেশি হয়ে যায়। মূলত বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ