হানিট্র্যাপের শিকার বাংলাদেশের এমপি!

আপডেট: মে ২৪, ২০২৪, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘হানিট্র্যাপ’! ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এলো তেমনই তথ্য। আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতায় খুনের ঘটনা জানাজানির পর শিলাস্তি রহমান নামে এক নারীর নাম সামনে এসেছে।

তদন্তকারীরা জানায়, এমপিকে হত্যার জন্য কলকাতার নিউটাউনে অভিজাত ‘সঞ্জীবনী গার্ডেনে’র যে ট্রিপ্লেক্স ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া হয়েছিল, সেখানেই ছিলেন ওই নারী। তাঁর কথা বলে অর্থাৎ ‘হানিট্র্যাপে’র টোপ দিয়ে বরানগর থেকে নিউটাউনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পর ঘটে হত্যাকাণ্ড।

ঢাকা পুলিশ সূত্রে খবর, মিশন শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ এমপি আনোয়ারুলকে খুনের পর মূল অভিযুক্ত আমানুল্লাহর সঙ্গে শিলাস্তি বাংলাদেশে ফিরে যান গত ১৫ মে। তাঁকে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। জানা যাচ্ছে, এই শিলাস্তি রহমান আনোয়ারুল খুনের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিনের বান্ধবী।

তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। কলকাতা পুলিশ নিউটাউনের ওই আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গত ১৩ মে ওই ফ্ল্যাটে ৩ জন একসঙ্গে ঢোকেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও এক নারী। একদিন সেখানে থাকার পর ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে আসেন এক পুরুষ ও এক নারী। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীই শিলাস্তি। ১৩ মে শিলাস্তি আমানুল্লাহ ও এমপির সঙ্গেই ফ্ল্যাটে ঢুকে থাকতে পারেন।

এর পর শিলাস্তি ১৫ মে বিমানে করে দেশে ফেরেন। তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরেন মূল অভিযুক্ত আমানুল্লাহ। সূত্র মারফত আরো জানা গিয়েছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিন এমপি আনারকে কলকাতা নিতে এই নারীকেই ‘ফাঁদ’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। কারণ, সব পরিকল্পনা করে শাহিন ১০ মে দেশে ফিরে এলেও শিলাস্তি থেকে যান কলকাতায়।

আমানুল্লাহ ও শিলাস্তি মিলেই এমপি আনোয়ারুলের দেহ টুকরো করে প্রথমে হাড় আর মাংস পৃথক করা হয়। তার পর তা হলুদ মিশিয়ে একটি ট্রলিতে ভরা হয়। তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে তারা। ঢাকার তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহিন ‘কিলার’ আমানুল্লাহকে নিয়ে কলকাতায় যান গত ৩০ এপ্রিল।

সেখানেই বসেই সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হত্যার পরিতণ্পনা করা হয়। কলকাতা থেকে ১০ মে দেশে ফেরেন শাহিন। তখন ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন শাহিনের বান্ধবী শিলাস্তি রহমান, মূল কিলার আমানুল্লাহ, জিহাদ, সিয়াম, মোস্তাফিজ। ১৩ মে রাতে হত্যা মিশন সম্পন্ন হয়। আমানুল্লাহ, শিলাস্তি দেশে ফেরার পর তাদের আটক করে হত্যারহস্য উদ্ঘাটন হয়। তাদের কাছে আনোয়ারুল হত্যার রোমহর্ষক কাহিনি জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ