২ এপ্রিল

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২০, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ


১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এই মন্ত্রিসভায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। তার সঙ্গে প্রথমে তড়িঘড়ি করে যে কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিলেন সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে টাঙ্গাইলের এক জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। সভা চলাকালীন টাঙ্গাইলের এসডিও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে (বঙ্গবন্ধুকে) ফোন করেছেন বলে জানান এবং এসডিও সাহেব বঙ্গবন্ধুর হাতে একটি টেলিগ্রাফও দেন। ভাসানীর সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকায় চলে আসেন বঙ্গবন্ধু। শেরেবাংলা বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘তোকে মন্ত্রী হতে হবে। আমি তোকে চাই, তুই রাগ করে না বলিস না। তোরা সকলে বসে ঠিক কর, কাকে কাকে নেয়া যেতে পারে।’ অসুস্থ সোহরাওয়ার্দী ফোনে কথা বলতে না পারলেও জামাতার মাধ্যমে জানালেন তাঁর আপত্তি নেই। ভাসানীও সম্মত। আরো কয়েকজনের সঙ্গে শপথ নিলেন বঙ্গবন্ধু। প্রথমবারের মতো পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁকে দেয়া হলো সমবায় ও কৃষি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে। স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাস করা শুরু করেন ঢাকার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। সেই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কম বয়স্ক সদস্য ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তখন তার বয়স মোটে ৩৪।
১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে একটি চিঠি লেখেন। পদগর্নি তাঁর চিঠিতে বঙ্গবন্ধু এবং রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার এবং তাঁদের ওপর অত্যাচারের কথা উল্লে¬খ করে ইয়াহিয়া খানের কাছে তাঁর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি তাঁর চিঠিতে বলেছিলেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়নের দৃঢ় বিশ্বাস যে, পূর্ব পাকিস্তানের ‘জটিল সমস্যা’র সমাধান একমাত্র ‘রাজনৈতিকভাবেই’ সম্ভব।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন কূটনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘে সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রোমিকো এবং জাতিসংঘে সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত জেকভ মালিক অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ সভা এবং নিরাপত্তা পরিষদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তাপূর্ণ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাও ছিল যুদ্ধোত্তের বঙ্গবন্ধুর মস্কো সফরের একটি প্রধান উদ্দেশ্য।