প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নওগাঁ-৫ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে জখম

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৩, ১:৩৯ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের ট্রাক প্রতিকের সমর্থক রেজাউল ইসলাম ওরফে রেঞ্জা (৬০)কে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে শহরের বটতলী মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ আসনের আ’ লীগের মনোনিত প্রার্থী নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) নৌকা প্রতিকক নিয়ে এবং নওগাঁ পৌর আ’লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আহত রেজাউল নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ট্রাক প্রতিকের নির্বাচনি প্রচারণা শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন রেঞ্জা। পথে রাত ৮টার দিকে বটতলী মোড় এলাকায় পৌঁছালে তার উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা করা হয়। হামলাকারীরা তাওেক কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে।

ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ অভিযোগ করেন যে, নৌকার প্রার্থীর অনুসারীরা রেঞ্জার ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে। কয়েক দিন আগে নৌকার প্রার্থীর অনুসারী এক নেতা আমার কর্মী চন্ডিপুর ইউনিয়ন আ’ লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেনকে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। নৌকা প্রার্থীর অনুসারী নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল হক কমল জানান, আমাদের কোনো নেতাকর্মী কারোর ওপর হামলা করেনি। তাদের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। এ ধরনের হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। পুলিশ নিশ্চয়ই ঘটনার তদন্ত করে দোষিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল হক বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে এ নিয়ে নওগাঁয় ছয়টি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটলো। এছাড়া প্রতিপক্ষের হাতে নওগাঁর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় পক্ষ-প্রতিপক্ষের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অন্তত ১২টি ঘটনা ঘটেছে।