রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বেগুনে আগুন, বেড়েছে লেবুর দামও

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
বেগুনে আগুন, বেড়েছে লেবুর দামও

অন্যান্য মুসলিম দেশে রোজা উপলক্ষে পণ্যের দাম কমানো হয়। আর আমাদের দেশে রমজান মাস এলেই বাড়তে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম। রোজা শুরুর আগেও লেবুর হালি ৬০ টাকা বিক্রি এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা হালিতে। এছাড়াও বেগুন ও শসা সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। বেড়েছে পাকা কলার দামও। এছাড়াও দু’দিনের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দামও। 


শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তিনদিন আগেও লেবুর হালি ছিল ৬০ টাকা। তা শুক্রবারে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা। গেল সপ্তাহে ৬০ টাকার গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। ৬০ টাকার শসা ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। টমেটোর দামও বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। 


খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বর্তমানে সরবরাহ কম। তাই রমজানে দাম বাড়ছে। তবে আড়ৎদাররা বলছেন, বাজারে যথেষ্ট সবজি আসছে। দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযান ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে না। 


বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, আগের মতোই অধিকাংশ দোকানে রমজানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী লেবু, বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, খেজুর, ছোলা, চিনির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তারপরও ৩ দিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে গেছে। 


সবজির দামের ব্যাপারে সাহেববাজারের শরিফুল ইসলাম বলেন,  ভোটের কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। সবজির দামও চড়া। রমজানে যেসব পণ্য বেশি দরকার তার দাম বাড়ছে। কারণ সরবরাহ কম। হাইব্রিড শসার কেজি ৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা। রোজার সময় ইফতারে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত ৩ দিনের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার লেবুর হালি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। রমজানে যে সব জিনিস বেশি দরকার সেসবের দাম বেশি বাড়ছে।


শামিম হোসেন নামের ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি কৃষকের ছেলে। গ্রামে বড় হয়েছি। এত বেশি দাম হবে ভাবিনি। আমরা খাব কী। খেতে না থাকলে বাজারে এল কীভাবে। রোজা এলে বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এটি পুরোনো রীতি। এবারও নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাজার ঠিক করা দরকার।


রমজানে ব্রয়লার মুরগিও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার প্রথম রমজানে ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি ও সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রমজানকে কেন্দ্র করে গরু ও খাসির মাংসেরও দাম বেড়ে গেছে। আগে ৭৫০ টাকা কেজি গরুর মাংস বিক্রি হলেও ভোটের পর থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। রমজানকে কেন্দ্র করে মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মাছ বিক্রেতারা। তারা বলেন, রুই ও কাতল মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর মাছের দামও বেড়ে গেছে। এসব মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তেলাপিয়া মাছের দামও বেড়ে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। 


অন্য পণ্যের মতো রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদাও বাড়ে। বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন মুদির দোকানে খোঁজ নিলে বিক্রেতারা বলেন, আগের মতো কোম্পানি সয়াবিন তেল দিচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তা যথেষ্ট না। ১ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও ৫ লিটার পাওয়া যাচ্ছে না। 


রমজানে পেঁয়াজের ব্যবহার বেড়ে যায়। এ কারণে দামও বেড়ে গেছে। কয়েক দিন আগে পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। হঠাৎ করে রসুনের দামও কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার তা ২১০ থেকে ২৩০ টাকা ও দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। তবে রমজানে চালের চাহিদা কম থাকায় দাম বাড়েনি।


মানভেদে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছোলা ১২০ থেকে ১৩০ কিংবা ১৩৫ টাকার মধ্যে ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ডালের মধ্যে ছোট মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানালেন, মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া বড় মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছোট মুগ ডাল কেজিতে বেড়েছে অন্তঃত ২৫ টাকা।