বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় বাঁশ -কঞ্চি দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে বানানো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেছে। প্রথমে তারা গ্রামের মেঠোপথে করা হয় প্রভাতফেরি।
শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি বের করা হয়। গ্রামের পথ ঘুরে প্রভাতফেরি আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। এরপর প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে তৈরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে একে একে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ ধরে নিজেরাই মাটি ও বাঁশ সংগ্রহ করে শহীদ মিনার তৈরী করেছেন। পাশাপাশি ২১ ফেব্রুয়ারির দিন আশেপাশের বন-জঙল থেকে বুনো ফুল সংগ্রহ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। বিদ্যালয়ের কোল জনগোষ্ঠির শিশুরা তাদের নিজস্ব ভাষায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতি পারি’ গান পরিবেশন করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শর্মিলা হাসদা বলেন, এই দিনটার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। আমরা নিজের হাতে মাটি দিয়ে শহিদ মিনার তৈরি করি। তারপরে বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে তার কাঠামো তৈরি করি। শহিদ মিনারে আলপনা আঁকি। তাছাড়া স্কুলের দুইটি ভবন মাটির আছে তা দেওয়াল লেপে-মুছে তাতে আলপনা করি।
ভোরে সকল শিক্ষার্থীরা হাতে হাতে ফুল নিয়ে প্রভাতিফেরি করে। প্রভাতফেরি শেষে শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলীউজ্জামান নূর কিরণ বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকেই মাটির বেদি তৈরি করে বাঁশ-কঞ্চির শহিদ মিনারের কাঠামো তৈরি করে।
একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে সব শিক্ষার্থী হাতে হাতে ফুল নিয়ে আসে শহিম মিনারে। প্রভাত ফেরি শেষে শ্রদ্ধা জানায় ভাষা শহীদদের প্রতি। ফুলের যে শ্রদ্ধাঞ্জলির ডালা সেই ডালাগুলো আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজে হাতে তৈরি করেন এবং এই ফুলগুলো আমাদের স্কুলের ফুল তারা নিজেরা তৈরি করে। বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছি এটি আমাদের জন্য খুবই গর্বের বিষয়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল আলম ভোতা বলেন, এই বিদ্যালয়টি যদি প্রতিষ্ঠিত না হতো তাহলে এ এলাকার আদিবাসী-বাঙালি শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ আমরা সবাই মিলে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে বেদিতে ফুল দিই। এটা খুব কম সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দেখা যায় না।