খামেনেই হত্যার পর ইরানের মসজিদের উপরে উড়ছে লাল পতাকা! কেন?
দেশের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-য়ের হত্যার পরই ইরানের জামকারান মসজিদের গম্বুজে উড়ছে লাল পতাকা। কী এর তাৎপর্য? এই লাল পতাকা আসলে প্রতিশোধের প্রতীক। খামেনেই-র মৃত্যুর পর, ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকাটি মসজিদের গম্বুজে টাঙানো হয়েছে।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোম শহরের মসজিদের উপরে টাঙানো লাল পতাকা নেতার সমর্থকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের প্রতিফলন।
শনিবার ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলার সময় তেহরানে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ও শোকের বাতাবরণ।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খামেনেই-এর হৎয়াকে “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজনের মৃত্যু” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, “দেশ দখলের জন্য এটাই ইরানি জনগণের কাছে সেরা সুযোগ।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনেই সম্পর্কে বলেছেন যে “এই অত্যাচারী আর বেঁচে নেই এমন অনেক লক্ষণ রয়েছে” এবং ইরানিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “এখন তোমাদের বাহিনীতে যোগদানের, শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার এবং তোমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার সময়।”
খামেনেই-র মৃত্যুর খবর প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরানের রাস্তায় উল্লাসধ্বনি শোনা গিয়েছে। কারণ খামেনেইর বাসস্থানের উপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভেসে উঠছিল। আইডিএফ জানিয়েছে, “খামেনেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস করার পরিকল্পনার স্থপতি ছিলেন এবং ‘ইরানি অক্টোপাসের প্রধান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমান্ত পর্যন্ত অস্ত্র বিস্তার করেছিলেন।”
ইরানের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথ
তিন সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদে যোগদানের জন্য ইরান ৬৬ বছর বয়সী একজন ধর্মীয় নেতাকে নির্বাচন করেছে, যারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম অনুসারে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর আলিরেজা আরাফিকে অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের আইনজ্ঞ সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার আরাফিকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইয়ের সঙ্গে কাউন্সিলে যোগদান করেছেন। এই কাউন্সিলই বিশেষজ্ঞ পরিষদ বলে পরিচিত। আরাফির নেতৃত্বাধীন এই পরিষদই খামেনেই-র উত্তরসূরী নির্বাচন না করা পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন