বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত হোক

লেবাননে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাসের ব্যবহার

সোনার দেশ ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন
লেবাননে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাসের ব্যবহার

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনির ইরান হামলার মেয়াদ ইতোমধ্যেই ১৩ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এখন উপলুব্ধ হচ্ছে, এই যুদ্ধ সহসাই শেষ হচ্ছে না- যতক্ষণ পর্যন্ত যৌথবাহিনি যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ায়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ধরেই নিয়েছিল-ইরানকে তারা এক ধাক্কাতেই পরাজিত করতে পারবে এবং দেশটিতে তাদের বশংবদ গোষ্ঠিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। ইরান তাদের সর্বস্ব নিয়ে মরণ কামড় দিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে শুধু তাই নয়- ইরানের উন্নত যুদ্ধ কৌশলের কাছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ধারাশায়ী হয়ে আছে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।


ইরানকে পর্যদস্তু করতে যৌথবাহিনি হেন নৃশংসতা নেই যা করছে না। ইরান ও লেবাননে তারা চূড়ান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরাকাষ্টা দেখিয়েছে- যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইসরায়েলের কাছে তা নেই।


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিজউমাস রাইটিস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ অভিযোগ করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনি সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। সংস্থাটি সোমবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই অভিযোগ তুলে ধরে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের সংস্থা সাতটি আলোকচিত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর এলাকায় ৩ মার্চ আবাসিক অঞ্চলের ওপর সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ ফেলা  হয়েছিল। এই হামলার ফলে অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন লেগে যায় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে ওঠে। ফলে এটি বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং অন্যান্য বেসামরিক জায়গায় সহজেই আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র ব্যবহার করা অবৈধ ও নির্বিচার হামলার শামিল। ইসরায়েলি হামলা এবং জোর করে এলাকা খালি করার নির্দেশের ফলে লেবাননে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাড়ি ঘর ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক হামলায় লেবাননে অন্তত ৩৯৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।


ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছে। অথচ বিশ্ব বিবেক নিরবে অপরাধকাণ্ড দেখছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শক্তিধর রাষ্ট্র যা খুশি করতে পারে- হোক তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এটা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। পৃথিবী বাসযোগ্য রাখতে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার অবসান হওয়া দরকার। জাতিসংঘের ভূমিকা খুবই প্রণিধানযোগ্য। লেবাননে ফসফরাস ব্যবহার এবং ইরানের স্কুলে বোমা হামলার আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার দায় এড়াতে পারে না।