সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

সোনার দেশ ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০১ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০১ অপরাহ্ন
মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন।  

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত আলোচলায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে মাদরাসাটির দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীদের গণবহিষ্কারের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্রিন পার্টি নামে একটি সংগঠন। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। তবে গণবহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তকে সমাধান হিসেবে দেখছে না সংগঠনটি। তাদের মতে, সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশের সুযোগ দিয়ে পাঠে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও বজায় থাকবে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। 

তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট