মোহনপুরে ফিলিংস্টশনে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা কৃষি অধ্যুষিত অন্যতম একটি এলাকা। এছাড়াও এ উপজেলার উপর দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক বয়ে গেছে। এছাড়াও রয়েছে অনেক আঞ্জলিক সড়কের সংযোগ। মহাসড়কের সংলগ্ন মোহনপুর উপজেলার মেনার্স কেশরহাট ফিলিং স্টেশন, মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মৌসুমী ফিলিং স্টেশন নামে ৩টি ফিলিং স্টেশন স্থাপিত হয়েছে।
এজন্য রাজশাহী জেলা সদও থেকে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেলসহ স্থানীয় নানা ধরণের যানবাহন এখানকার ফিলিং স্টেশন থেকে বেশিরভাগ সময় তেল নেয়। সম্প্রতি কেশরহাটে অবস্থিত তেল পাম্পগুলোয় ক্রেতাদের লাইনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে ফিলিং ষ্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছার বাহিরেও ক্রেতাদের কষ্ট ও ভোগান্তি বাড়ছে। ঘটছে অনাকাংখিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মতো ঘটনা। এজন্য তেল সরবরাহ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলায় যুগ যুগ ধরে রাজশাহীর সর্বাধিক মিষ্টি পানের চাষ হয়ে আসছে। প্রতি বছর শুধু মাত্র মোহনপুর উপজেলার হাটবাজারেই প্রায় সাড়ে ৬শো কোটি টাকার পান ক্রয়-বিক্রয় হয়। আর এসকল পান বরজে পানি সেচ কাজে বিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যপক পরিমাণে ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রয়েছে অনেক বোরো ধান, পটল, লাউসহ নানা সবজি খেতে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র। সম্প্রতি চাহিদানুযায়ি তেল না পেয়ে ব্যবসায়িরা এখানকার উৎপাদিত পান, মাছ, আলু, পটলসহ সব ধরণের সবজি দেশের অভ্যন্তরে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছেনা। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমুল্য বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় পেট্রোল ও অকটেনের যোগান অনেকাটায় কম। এজন্য তেল সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেশরহাট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ গত ২৪ মার্চ স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশকৃত একটি লিখিত আবেদন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিট্রেডের সহকারি মহাব্যবস্থাপক বগুড়া বরাবর প্রেরণ করেন। যা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানা গেছে। ওই আবেদনের আলোকে জানা গেছে, মেসার্স কেশরহাট ফিলিং ষ্টেশনে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ডিজেল বরাদ্দ ছিল ৮৫৫০০ লিটার, পেট্রোল ২৭০০ লিটার, অকটেন ৯০০০ লিটার। প্রাপ্ত তেলের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ি, গত ২২ এপ্রিল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৪০ ডিগ্রি) রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহীতে। এদিন মেমার্স কেশরহাট ফিলিং ষ্ট্রেশনে তেল বিতরণকালে তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বাঁশ শিল্পের শ্রমিক হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান। এসময় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রƒত মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হিটস্ট্রোকে মৃত ঘোষনা করেন। এর আগে গত ২৯ মার্চ রাতে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরার সময় পাম্পের সামনেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাইকার আবদূল মালেক স্বর্ণকার। এদিকে যেন তেল গ্রহিতাদের লাইন দিন দিন আরো দীর্ঘ হচ্ছে।
বুধবার সেচ কাজের জন্য এ পাম্পে আসা নাজিম উদ্দিন নামে একজন পেট্রোল গ্রহিতা জানান, আমার পান বরজ ও সবজি খেতে সেচ দেয়ার জন্য তেল নিতে এসেছি। কঠিন রোদ, দীর্ঘ লাইন সব শেষ তেল পাবো নাকি ফুরিয়েই যায় । তেলের সরবরাহ বাড়ালে নিয়োমিত এবং পেলে অনেকাংশে আমাদের ভোগান্তি বন্ধ হতো।। রবিউল ইসলাম নামের একজন ট্রাক মালিক বলেন মোহনপুরের তেল পাম্পে যে পরিমাণ তেল আসে কিছুক্ষণ দেয়ার পরে ফুরিয়ে যায়। পাম্পের লাইনে সিরিয়াল দিয়ে যখন তেল পাচ্ছিনা ভাড়াও ধরতে পারছিনা। তখন পরিবার চালানোর দুঃখটা বুক ফাটা কান্না আসে। তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়ালে আমরা গাড়ি চালিয়ে জীবন যাপন করতে পারবো। এজন্য কর্তৃপক্ষের সু নজর কামনা করছি।
জানতে চাইলে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জনসাধারণের দুর্ভোগ রোধে পাম্পে অতিরিক্ত লোকবল বাড়িয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি আমাদের কেশরহাটের দুটি পাম্পে নিয়োমিত তেল সরবরাহ করে আসছি। তবে কেশরহাট ফিলিং ষ্টেশনে প্রাপ্ত তেলের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি। এজন্য মোহনপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার এবং রাজশাহী-৩ আসনের মাননীয় এমপি মহোদয়ের সুপারিশকৃত একটি আবেদন আমি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিট্রেডের সহকারি মহাব্যবস্থাপক বরাবর (বিক্রয়) পাঠিয়েছি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সরবরাহ বাড়ায়নি। সরবরাহ বাড়ানো একান্তই জরুরী বলেও দাবী করেন তিনি।
মোহনপুর উপজেলা কুষি অফিসার কামারুল ইসলাম জানান, সেচ কাজে প্রেট্রোল ও ডিজেল চালিত যন্ত্রের সংখ্যা নিরুপণের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সংখ্যা জানানো যাবে। তবে লাইন দীর্ঘ হলেও কৃষকরা তেল পাচ্ছেন। দ্রূত অধিক চাহিদার হাহাকার কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ইতোমধ্যে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।