শনিবার, মে ০২, ২০২৬

মোহনপুরে জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দিনমজুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪১ অপরাহ্ন
মোহনপুরে জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দিনমজুরের

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক দিনমজুর। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইতোমধ্যে তার জমির একটি অংশ দখল করেছেন এবং অবশিষ্ট অংশ দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী দুলাল চন্দ্র সরকার (৬১)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মৃত তাছের উদ্দিন সরকারের চার ছেলে—-আশরাফুল ইসলাম, কামরুল হাসান বাবু, আসাদুল ইসলাম ও আবুল বাসার তার জমির একই খতিয়ানের অংশীদার। পৈত্রিক সূত্রে তিনি ৪ শতাংশ জমির মালিক। তবে বিবাদীরা একই খতিয়ানের ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে এখন তার অংশসহ পুরো জমির মালিকানা দাবি করছেন, যা তিনি বেআইনি বলে উল্লেখ করেন।


দুলাল চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার বাড়ির পাশেই নির্মাণকাজ শুরু করে ধীরে ধীরে তার জমির একটি অংশ দখল করেছেন। পাশাপাশি তার বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি ভ্যানগাড়ি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়ে প্রয়োজনীয় রাস্তা রেখে নির্মাণের অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 


তিনি আরও বলেন, গত ২১ এপ্রিল এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রেজাউল ও ভূপেনন্দ্রনাথসহ একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি মোহনপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া মৌজায় অবস্থিত (জে.এল. নং ৪২, খতিয়ান নং ৩৯০, দাগ নং ১৫৬৫, দলিল নং ৪৭৬৭)। এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ১১৪৩/২০২৩) দায়ের করেন। আদালতের রায়ে তার দখলকৃত অংশে প্রতিপক্ষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী। তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি করেন।


দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, এ ঘটনায় তিনি মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি।


তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহনপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়েদা সুলতানা ও মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগটি তার দফতরে পৌঁছেছে। বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত হওয়ায় তা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠানো হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধের বিষয় থাকলে থানাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে বলেও জানান তিনি।