শনিবার, মে ০২, ২০২৬

পৌনে চার বছর আগে খুন হওয়া কিশোর বিস্ফোরক মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন
পৌনে চার বছর আগে খুন হওয়া কিশোর বিস্ফোরক মামলার আসামি

রাজশাহীতে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ২০২২ সালের ৩ জুলাই জন্মদিনে খুন হন কিশোর সনি (১৬)। তিনি ওই সময় এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু গেল ২৩ এপ্রিল রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হলে এর একটি মামলায় সনিকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।  


সনির বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়কও। তিনি ওই মামলার প্রধান আসামি। এই মামলাটি করেছেন রাজশাহী নগরীর সুলতানাবাদ এলাকার শাহজাহান আলী নামের এক ব্যক্তি। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ১৫ জনকে। মামলায় সনির বয়স দেখানো হয়েছে ২৫ বছর।


মামলার এজাহারে বলা হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ১, ৩, ৪, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর আসামি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়াও হামলা চালিয়ে এক শ্রমিককে গুরুতর আহত করেন।  


তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের জেরে ২২ এপ্রিল শ্রমিকরা পাখিকে লাঞ্ছিত করেন। সংগঠনের কার্যালয়ে তালা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন। তারা সংগঠনের নির্বাচন দাবি করছিলেন। এছাড়া নাটোরের সঙ্গে বিচারও দাবি করেছিলেন।  

রফিকুল ইসলাম পাখি তার অনুসারী শ্রমিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ২৩ এপ্রিল বিকেলে ইউনিয়ন কার্যালয় পুনর্দখলে যান। সেদিন শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলাকারীদের হাতে সেদিন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। নগরীর শিরোইল এলাকায় এই হামলার সময় আশপাশের কয়েকটি দোকানপাটেও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ২৪ এপ্রিল উভয়পক্ষই বোয়ালিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেন। শ্রমিক নেতা পাখি গ্রুপের হয়ে মামলা করেন আবুল কাশেম টুলু নামের এক ব্যক্তি। আর পাখি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাজাহান আলী নামের এক ব্যক্তি।


এই মামলার বাদি শাহজাহানের মুঠোফোন নম্বর সোমবার বিকেল থেকেই বন্ধ। বন্ধ আছে শ্রমিক নেতা পাখির নম্বর। তবে তিনি এখন পলাতক আছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তার মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ আছে।  


বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, দুই মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


মৃত কিশোরকে আসামির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তো স্থানীয় না। নিয়মিত বদলির মধ্যে থাকি। সব ঘটনাও জানি না। তাই তারা আসামি করেছে, আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি যে মামলার ৩ নম্বর আসামি মৃত। আমরা প্রতিবেদন দিলে আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।  


উল্লেখ্য, ৩ নম্বর আসামি মৃত সনি ২০২২ সালের ৩ জুলাই নিজের জন্মদিনেই খুন হন। কিশোর গ্যাঙের দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বে ওইদিন রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা। এরপর হেতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে তাকে ড্রেনে ফেলা রাখা হয়। এ ঘটনায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তার বাবা।


সনিকে হত্যার দায়ে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ দুজন তরুণ ও তরুণীকে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।  এরপর থেকে আদালতে আছে আসামিরা