শনিবার, মে ০২, ২০২৬

চাকরির নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের দাবি নগর স্বাস্থ্যকর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
চাকরির নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের দাবি নগর স্বাস্থ্যকর্মীদের

আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের চাকরির নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতার দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভও করেছে। এরপর সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। 


সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ের আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার (নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে হস্তান্তর করা হচ্ছে। গেল বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।


স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্মিত ১৯২টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র এতদিন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে স্বাস্থ্যসেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্র আত্মীকরণের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবারের সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।


এরপর থেকে চাকরির অনিশ্চতায় পড়েছে আরবান প্রাইমারি হেলফ কেয়ারের সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। রাজশাহীতে ১২টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২০৭  জন ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি আছে। তারাদীর্ঘদিন ধরে নগর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। 


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পার্টনারশিপ এলাকা-১ ও ২ এর অধীনে ন মোট ১২টি স্বাস্থ্য স্থাপনা আছে। এর মধ্যে দুটি নগর মাতৃসদন এবং ১০টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে।  যা বর্তমানে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে এগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে নিচ্ছে। 


আন্দোলনরত স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, হস্তান্তর সংক্রান্ত জারিকৃত স্মারকে কর্মরত জনবলের ভবিষ্যৎ চাকরি, পদায়ন, বেতন ভাতা, চাকরির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। ফলে আমরা সকল কর্মকর্তা কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। যা সেবার মানেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।


স্মারকলিপিতে তারা ৫টি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে আছে- কর্মরত সকল জনবলের চাকরির পূর্ণ নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। বর্তমান জনবলকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ। সরকারি বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা ও চাকরির শর্তাবলি বহাল রাখা। কর্মরতদের ভবিষ্যৎ পদায়ন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে লিখিত স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান। হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় জনবল যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।