রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র গরমে তালশাঁসের চাহিদা বৃদ্ধি, ব্যস্ত বিক্রেতারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র গরমে তালশাঁসের চাহিদা বৃদ্ধি, ব্যস্ত বিক্রেতারা

টানা দাবদাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে কাঁচা তাল বা তালশাঁসের কদর। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শীতল রাখতে এবং পানির চাহিদা মেটাতে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে ভিড় করছেন তালশাঁসপ্রেমীরা। ফলে জমে উঠেছে তালশাঁসের মৌসুমি বাজার।


মধুমাসখ্যাত জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে মৌসুমি ফলের সমাহার দেখা গেলেও এবার বিশেষভাবে নজর কাড়ছে তালশাঁস। আমের বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হতে এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও লিচুসহ অন্যান্য ফলের পাশাপাশি তালশাঁসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।


সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউমার্কেট এলাকা, পৌরসভার সামনের সড়কসহ  বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে দেখা যায়, অস্থায়ী দোকান সাজিয়ে তালশাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। গরমে স্বস্তি পেতে এসব দোকানে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।


নিউমার্কেট এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করা সদর উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আরিফ বলেন, বছরের অন্যান্য সময় কৃষিকাজ করি। তবে তালের মৌসুমে তালশাঁস বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও ভালো হচ্ছে।


পৌরসভার সামনে তালশাঁস বিক্রি করা মহিপুর গ্রামের জুয়েল রানা জানান, এক হালি বা চারটি ‘তালের চোখ’ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি পিস তালশাঁসের দাম প্রায় ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার পিস তালশাঁস বিক্রি করা যায়।


বিক্রেতারা জানান, একটি তাল থেকে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। গ্রামে গ্রামে ঘুরে কচি তাল সংগ্রহ করে বাজারে আনা হয়। গাছে ফলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে একটি তালগাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনে নেওয়া হয়।


আরেক বিক্রেতা রহমান বলেন, কেউ একটু তরল শাঁস পছন্দ করেন, আবার কেউ একটু শক্ত শাঁস খেতে ভালোবাসেন। তবে অধিকাংশ মানুষ কচি ও নরম শাঁসই বেশি পছন্দ করেন।


তালশাঁস কিনতে আসা পৌর এলাকার বাসিন্দা লিটন আলী বলেন, গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এটি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি।


কচি তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, গরমের এই সময়ে কচি তালের শাঁস শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এতে প্রচুর পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের কোষের ক্ষয় রোধে সহায়তা করে এবং শরীরকে দ্রুত শীতল করে।


তিনি আরও বলেন, যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের পরিমিত পরিমাণে তালশাঁস খাওয়া উচিত।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় এটি দেহের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এতে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য উপকারী। পাশাপাশি মৌসুমি এই ফল গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


তিনি আরও জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে তালগাছ রোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষাসহ  অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।