শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

মন কেড়েছে ‘পুতুল প্রহর’

শাহীন রহমান, পাবনা ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ন বিনোদন
শাহীন রহমান, পাবনা ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ন
মন কেড়েছে ‘পুতুল প্রহর’

শৈশবের স্মৃতি আর ঐতিহ্যকে নতুন করে উদযাপনের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘পুতুল প্রহর’। শৈশবের টানে, পুতুল খেলা জাগুক প্রাণে-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত হয় এই আনন্দ উৎসব।


কলেজের সাহিত্য ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। মাটি, লোকজ ঐতিহ্য ও বাংলার পুতুলশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল পুতুল প্রদর্শনী, পুতুলের ইতিহাস, পুতুল পরিবারের পরিচয়, পুতুলের গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।


গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়ি ও পাঞ্জাবি পড়ে সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসবে যোগ দেন উৎসুক দর্শনার্থী ও আয়োজকরা।


অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে মুষলধারে ঝুম বৃষ্টি নেমে আসে। তবে তা আনন্দে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। আয়োজক ও উপস্থিত উৎসাহী পুতুলরা বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই মেতে ওঠেন নাচ-গানে। বৃষ্টিতে ভিজে নেচে-গেয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝেই এক অন্যরকম উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।


অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ছিল নানা আয়োজন। প্রাচীন ও লোকশিল্পের পুতুল প্রদর্শনের পাশাপাশি তুলে ধরা হয় এর ইতিহাস। আনন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় পুতুল পরিবারের সদস্যদের। এরপর বাঙালি বিয়ের রূপরেখায় ছিল পুতুলের পাত্রী দেখা, পুতুলের গায়ে হলুদ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং সবশেষে জমকালো পুতুলের বিয়ে।


আনন্দমুখর এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করানোর মাধ্যমে। সব শেষে ছিল পান সুপারিতে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও। ঝুম বৃষ্টির মাঝেও হাসিমুখে নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন আয়োজক পুতুলেরা। উপস্থিত দর্শকরাও এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করেন। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রকৃতির এই বৃষ্টি আমাদের থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং এই বৃষ্টি আজকের পুতুল প্রহর-কে আরও স্মরণীয় করে রেখেছে।


হাসান মাহমুদ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি এই ভালোবাসাই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন মন ভাল করে দেয়। যেন ছোট্ট বেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। আয়োজকদের ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজনের জন্য। মন কেড়েছে পুতুল প্রহর।


আরিফুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক তার শিশু সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ঠেলে শৈশবের সহজ-সরল রঙিন দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার এমন চমৎকার উদ্যোগ সত্যি অনন্য। বৃষ্টির রিমঝিম সুরের সাথে পুতুল খেলার এই আনন্দমুখর মুহূর্তটি উপস্থিত সবার মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসা অভিভাবক সরোয়ার মোর্শেদ বলেন, এমন আয়োজনের কথা শুনে মেয়ে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম পুতুলের ঐহিত্যের সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দিতে। উদ্যোগটা প্রশংসনীয়। বৃষ্টি না এলে পুরো আয়োজনটা সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারতেন দর্শকরা।


আয়োজকদের মধ্যে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সাহিত্য ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সঙ্গীত, নৃত্য শিল্পী পুনম প্রজ্ঞা বলেন, সেই ছোটবেলায় পুতুল খেলতাম। বড় হওয়ার পর সেই শৈশবটা আর নেই, হারিয়ে গেছে। তখন সেই শৈশবের স্মৃতিটুকু ফিরিয়ে আনার জন্য চিন্তা করি আমরা পুতুল খেলবো। এটা যে বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, সেটাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলার জন্য আয়োজনটা করি। নতুন প্রজন্ম তো পুতুল খেলা থেকে অনেক দূরে। তারা জানে না পুতুল খেলা কি। তাদের জানানোর জন্য পুতুল খেলাটা বাঙালী সংস্কৃতিতে কোন সময় থেকে এসেছে তার ইতিকথা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।