শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

লোডশেডিং : ঈশ্বরদীতে পল্লি বিদ্যুতের মিটার রিডারকে আটকে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ন
লোডশেডিং : ঈশ্বরদীতে  পল্লি বিদ্যুতের মিটার রিডারকে আটকে  গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিদ্যুতের অসহনীয় টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও গ্রামবাসী পল্লি বিদ্যুতের মিটার রিডারকে আটকে বিক্ষোভ করেছেন। গ্রামবাসী এসময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তৈরির অভিযোগও করেন। আইনুল হোসেন নামের পাবনা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিটার রিডার আইনুল পাবনা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে মিটার রিডার হিসেবে কর্মরত।


স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার চরগড়ড়ি এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভুল মিটার রিডিং ও অতিরিক্ত বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ। অনেক গ্রাহককে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


পল্লি বিদ্যুতের ভুক্তভোগী গ্রাহক আকমল প্রামাণিক বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ভোগ করছি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বার প্রতি লোডসেডিংয়ে ১ থেকে দেড় ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে।  কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার কোনো ঠিক থাকেনা। এছাড়া ভুল রিডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিষয়টি নিয়ে পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’


স্থানীয় ইউপি সদস্য রূপভান খাতুন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে মিটার রিডিং নিতে যান আইনুল হোসেন। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাকে আটকে রেখে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। প্রায় চার ঘণ্টা পর এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দেন।


অবরুদ্ধ অবস্থায় মিটার রিডার আইনুল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে এটি শুধু এই গ্রামের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আপাতত মিটার রিডিং ও বিল লেখা বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছি।