সান্তাহারে ইদগাহের পুরো সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নির্দেশ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের কেল্লাপাড়া পানলা ইদগাহের পূর্ব দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গ্রামবাসীদের লিখিত অভিযোগ প্রদানের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।
লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা খাতুন ও উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন। এসময় স্থানীয়রা সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৩নং ইট ব্যবহার করে তাড়াহুড়া করে নিম্মমানের প্লাস্টার করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রদান করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মেম্বার নাজিম উদ্দিন পুরো সান্তাহার ইউনিয়নের সকল উন্নয়নমূলক কাজ নিজে করছেন এবং প্রতিটি কাজে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ আছে মর্মে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার ইউনিয়নের কেল্লাপাড়া পানলা ইদগাহের পূর্ব দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইদুরের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। নির্মাণ কাজে ৩নং ইট ব্যবহার করা হয়েছে মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্যানেল চেয়ারম্যানকে নিম্মমানের ইট ব্যবহারে নিষেধ করা হলেও স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিষেধ অমান্য করে বর্ষা মৌসুমে তাড়াহুড়া করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া ইট গাঁথার পর নিম্মমানের প্লাষ্টারও করা হয়েছে। এমন অনিয়মের কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে গ্রামবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কাজে নিম্মমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
অভিযোগকারী সাদ্দাম, নাহিদ, জয়সহ অন্যরা জানান সামান্য এই কাজটি করতে সর্বোচ্চ ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে নয়-ছয় করে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা বার বার অনুরোধ করার পরও সাব-ঠিকাদার প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন অনুরোধ রাখেননি। পেশীবলে তিনি তার মতো করে নিম্মমানের ইট ব্যবহার করেছেন। তাই কাজের মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই অসন্তোষ হওয়ার কারণে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা জানান উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কেল্লাপাড়া পানলা ইদগাহের পূর্ব দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। সেই কাজটি দেখভালের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: নাজিম উদ্দিন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনি কাজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের দাবীতে সম্পন্ন হওয়া কাজটি ভেঙ্গে না ফেলে আর সামান্য যে অংশের কাজ বাকি আছে শাস্তি হিসেবে চেয়ারম্যানকে সেই কাজটি ভালো মানের উপকরণ দিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা খাতুন। তিনি আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুতই প্যানেল চেয়ারম্যান অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করবেন। উপজেলাজুড়ে সকল উন্নয়নমূলক কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। উন্নয়নমূলক কাজে কোন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও জানান এই কর্মকর্তা।