শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ একই নাম বারবার, এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায়!

বগুড়া প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
বগুড়ার শিবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ  একই নাম বারবার, এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায়!

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চূড়ান্ত ও অপেক্ষমাণ তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে সুযোগ দেওয়া এবং এক অঞ্চলের তালিকায় অন্য অঞ্চলের প্রার্থীর নাম ঢোকানোর মতো একাধিক অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের সানভালকি এলাকার জয়নাল আবেদিন নামের এক প্রার্থীর নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় ১২ ও ৬১ -এই দুই নম্বরে রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই ব্যক্তির নাম আবার অপেক্ষমাণ তালিকার ৬ নম্বরেও স্থান পেয়েছে। একজন প্রার্থী কীভাবে একই সঙ্গে মূল তালিকার একাধিক স্থানে এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকেন, তা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার সুলতানপুর গ্রামে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম তালিকায় দেখা গেছে। সুপারভাইজার পদের তালিকায় ৮ নম্বরে আশরাফুল ইসলাম এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় ৮৩ নম্বরে তাঁর স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নাম রয়েছে। একটি পরিবারের দু’জন সদস্যকে ভিন্ন ভিন্ন পদে নির্বাচিত করায় নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়রা সংশয় প্রকাশ করেছেন।


অন্যদিকে, মোকামতলা উপজেলার প্রার্থী তালিকায় শিবগঞ্জ উপজেলার একাধিক প্রার্থীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই তালিকায় একই পরিবারের তিন বোন, দুই ভাই এর নাম থাকার অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।


এ ছাড়া, শিবগঞ্জ উপজেলার তথ্য সংগ্রহকারী পদের অপেক্ষমান তালিকায় পৌর এলাকার বেড়াবালা গ্রামের হোসেন আলীর নাম ১২ ও ১৯ নম্বরে রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ব্যক্তির নাম অপেক্ষমান তালিকায় দুই জায়গায় থাকায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তালিকা তৈরির সময় তথ্য যাচাই-বাছাই আরও সতর্কতার সঙ্গে করা প্রয়োজন। একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় থাকা কিংবা ভিন্ন উপজেলার তালিকায় প্রার্থীর নাম থাকার বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজনের নাম যদি একই তালিকায় একাধিকবার থাকে এবং আবার অপেক্ষমান তালিকাতেও থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই যাচাই করা দরকার। এতে প্রকৃত প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।”


এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।