আদমদীঘিতে সওজের জায়গায় অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে বগুড়া-নওগাঁ আন্তঃমহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় অবস্থিত আদমদীঘি হাটে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সওজের অনুমতি বা অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ অনুযায়ী, আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হাটের ভেতরে ইট সোলিংসহ ১৭ লক্ষ টাকার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সওজের জায়গায় অনুমতিবিহীনভাবে আদমদীঘি হাট পরিচালিত হয়ে আসছে। এরই মধ্যে বগুড়া-রাজশাহী মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় হাটের বর্তমান জায়গার একটি অংশ সড়কের আওতায় পড়তে পারে। ফলে এই মুহূর্তে সরকারি অর্থ ব্যয়ে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে তা ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করলে প্রকল্পের কাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক বলেন, ‘আদমদীঘি উপজেলা সদরের হাটের জায়গাটি সওজের। জায়গাটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি। সেখানে কোনো কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সওজের কাছ থেকে কোনো এনওসি বা অনুমতি নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই আদমদীঘি হয়ে আন্তঃজেলা সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য সওজের একটি পর্যবেক্ষণ দল দ্রুত সেখানে যাবে।’
অভিযোগের বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।