শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি
হরমুজ প্রণালীতে জাহার চলাচল । ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালী ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায়’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান হোসেইন তাইয়েব। এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।


আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে তাইয়েব বলেন, ‘আজ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরান পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যেই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাইয়েবের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানের বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনী নেই, এমন দাবি করা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন আবারও পরাজিত হয়েছে।


২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন বন্দর থেকে যাতায়াতকারী জাহাজের নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে তারা।


নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার কথা ইরানি উপদেষ্টার

বৃহস্পতিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও দাবি করে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমান্ডটি বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা ‘ভিত্তিহীন দাবি’ মিথ্যা ও অসত্য ছাড়া কিছুই নয়।


গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছেছিল। এতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং উপসাগরে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।


তবে কয়েক সপ্তাহ পরই সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে সীমিত হামলা পুনরায় শুরু করে, যেগুলো চুক্তির শর্তের বিরুদ্ধে চলাচল করছিল বলে তেহরানের দাবি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আবারও হামলা শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি, উপসাগরে জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমাতেই এসব হামলা করা হয়েছে।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তেহরানের শর্ত পূরণ না হলে মোজতবার কৌশল হবে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধ’।

তিনি লেখেন, ওয়াশিংটনের সামরিক নিশ্চয়তার বাইরে হরমুজের অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নই নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পথ।


এ বক্তব্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সংগঠিত করার সম্ভাব্য একটি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা রাসুল সানায়ি-রাদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তির অধীনে অপর পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না।

ফার্সকে তিনি বলেন, জলপথটি খুলে দেওয়া এমন কোনো বিষয় নয়, যা যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে করতে পারে।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বাংলানিউজ