শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি কৃষি সচিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি কৃষি সচিবের

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।


শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত 'মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়' সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই তথ্য না আসে যে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সংকট তৈরির সাথে জড়িত।


সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সরকারি গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, সিন্ডিকেট দমনে সরকার কঠোর। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সরকারি গোডাউন এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকে, তবে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। 


ভর্তুকির বিষয়ে আলোকপাত করে সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি কেজি ডিএপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে।


ডিলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের উচিত সরকারকে এই কাজে সহায়তা করা, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানান, ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তাদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কৃষি সচিব বলেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।


রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির কেন্দ্রীয় ও জেলার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সার ডিলার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রম, মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনা ও কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে পরির্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চান্দোপাড়া গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী’-এর মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কৃষি সচিব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সচিব বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার মজু রয়েছে। কৃষকরে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারে ভর্তুকি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করছে। তিনি কৃষকদের পরিমিত ও সুষম সার ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি অসাধু সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন। এ সময় তিনি মোহনপুরে পান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

কৃষি সচিব বলেন, দেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশে পাচার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কৃষক পর্যায়ে যথাসময়ে সার পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম,  যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান, সচিবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজশাহী বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার ডিলারদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সার সরবরাহ, বিতরণ ও মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।#