২০২৫ সালে ১৮৭ ও চলতি বছরে ১২২ কারাবন্দি মারা গেছেন: আইজি প্রিজন
গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসার অভাব বা অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসায় আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বর্তমানে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে ২০২৫ সালে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। মোট ১৫১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র দুজন চিকিৎসক কর্মর। অন্যান্য কারাগারে অস্থায়ীভাবে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে। তারা অন্য জায়গায় কর্মরত থাকায় কারাগারে পূর্ণকালীন সময় দিতে পারেন না।
তিনি বলেন, ১০১ জন সিভিল সার্জন বিভিন্ন কারাগারে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত। বর্তমানে প্রায় সব কারাগারেই ফার্মাসিস্ট অথবা মেডিকেল/ ডিপ্লোমা কোয়ালিফাইড লোক রয়েছেন। সম্প্রতি পিএসসি থেকে ৫৫ জন নার্স নিয়োগের আদেশ হয়েছে। শিগগির তারা যোগ দেবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার বাড়ায় কারাগারে বন্দি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, সাধারণত প্রায় ৮০ হাজার বন্দি নিয়ে কাজ করে কারা বিভাগ। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯৮ হাজার হয়েছে। গতকালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭৯৬ জন বন্দি আসছেন এবং প্রায় ৩ হাজার বেরিয়ে যাচ্ছেন।
বন্দি সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত আসামিদের কারাগারে আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত আসামি কারাগারে এসেছেন। তাদের কেউ একদিন, কেউ পাঁচদিন, সাতদিন, এক মাস বা তিন মাসের সাজা পেয়েছেন। এতে কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি এরই মধ্যে সরকারের নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ