মুন্সীগঞ্জে বাস থামিয়ে রড-লাঠি নিয়ে যাত্রীদের উপর হামলা, আহত ৪
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে কিছু লোক রড়-লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের মারধর করেছে। এতে চার যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় ঢাকামুখী লেনে মিয়ামি পরিবহনের বাসে এ ঘটনা ঘটে বলে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আখন্দ জানান।
আহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভাগুরা এলাকার সোহেল সরকার (২৬), চানপুর এলাকার হাসিনা আক্তার (৪৫), ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার নাসিমা আক্তার (৪৮) এবং কুমিল্লার চানপুর এলাকার সিয়াম (২১)।
আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে এক মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় বাসের মধ্যে আহাজারি করছেন। তাদের মাথা থেকে প্রচন্ড রক্ত ঝরছিল। আহতদের অন্য সহযাত্রীরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের কেউ কেউ আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাসের সিটেও রক্তের ফোটা দেখা গেছে।
১৩ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহতদের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওই বাসের যাত্রী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা এস এম শাফায়াত হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে যাত্রীরা মিয়ামি পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বাসটি মাধাইয়া এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী সড়কে পড়ে যান।”
এরপর বাসচালক আতঙ্কিত হয়ে বিপরীতমুখী সড়ক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন। যাত্রীরা তাকে গতি কমাতে বললেও চালক কথা শোনেননি বলে অভিযোগ করেন শাফায়াত হোসাইন।
“চালকের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় বাসটি আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক ও চালকের সহকারী কৌশলে পালিয়ে যান।”
শাফায়াত হোসাইন বলেন, “পরে যাত্রীদের অনুরোধে মিয়ামি পরিবহন কর্তৃপক্ষ আরেকটি বাস পাঠায়। ওই বাসে করে যাত্রীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বাসটি মেঘনা-গোমতী সেতু পার হয়ে গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৫০-৬০ জনের একটি দল বাসটির গতিরোধ করে। চালক বাধ্য হয়ে বাস থামায় এবং দরজা খুলে দেন।
“এরপর হামলাকারীদের একটি দল বাসে উঠে কোনো কথা না বলে দেশীয় অস্ত্র, রামদা, রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে যাত্রীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তবে তারা কারা কিছু বোঝা যায়নি।”
যাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কামরুন নাহার বলেন, “বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে চারজন আহত রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিয়ামি পরিবহনের একজন বাস মালিককে সন্ধ্যায় মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরে কুমিল্লার নগরীর জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে মিয়ামি পরিবহনের কাউন্টারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পাশের একটি বাস কাউন্টারের কর্মচারীরা বলেন, সন্ধ্যা থেকে মিয়ামির কাউন্টার বন্ধ রয়েছে।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ামি এয়ারকন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছে।
পোস্টে মিয়ামি এয়ারকন গাড়ির চালকের নাম না বলে তাকে আজীবন বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। চালক এখন পলাতক রয়েছেন। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে বলে এতে বলা হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আখন্দ বলেন, “বিষয়টি অবগত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। একজনকে চিকিৎসক ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন এবং অন্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
“এ ছাড়া অন্য যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
গজারিয়া থানার ওসি নকীব আকরাম হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ