মহিলা পরিষদের পাঠ চক্র অনুষ্ঠিত
মহিলা পরিষদ রাজশাহী শাখার পাঠ চক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নগরীর রানী বাজার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সম্পর্কে ও নারী-পুরুষের অধিকার সম্পর্কে তরুণ সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে ‘জেন্ডার ও উন্নয়ন’-শীর্ষক
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন কার্যকারী কমিটির সদস্য তাহেরা খাতুন। পাঠচক্রে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদেও উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন,লিগ্যাল এইড সম্পাদক শিখা রায় প্রমূখ। জেন্ডার ও উন্নয়ন সম্পর্কেসংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার বলেন,লিঙ্গ বলতে শুধু মাত্র নারী ও পুরুষের দৈহিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করা হয় না বরং প্রত্যেক সমাজ ও সাংস্কৃতি যে ভাবে স্ব-স্ব ভাবে নারী ও পুরুষের অর্থ নির্মান করে থাকে,তাকেজেন্ডার (লিঙ্গ) বলা হয়। অর্থাৎ সমাজ ও সাংস্কৃতির প্রেক্ষিত অনুযায়ী লিঙ্গ নির্মিত হয়ে থাকে। জেন্ডার ও উন্নয়ন হলো এমন একটি ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি, যা উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহন, ক্ষমতা এবং সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
তিনি আরো বলেন, জেন্ডার বৈষ্যমের প্রধান কারণগুলো হলো:পিতৃতাত্বিকসামাজিক ব্যবস্থা, পুত্র সন্তানের অতিরিক্ত অগ্রাধিকার,শিক্ষার অভাব, অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা এবং ক্ষতিকর,সামাজিক কুসংস্কার।
এই বিষয়গুলো সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার ভারসম্য নষ্ট করে এবং বৈষম্য তৈরী করে। নারীদের অধস্তন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জেন্ডার সমতার মূলনীতি হলো : নারী পুরুষ কিংবা ভিন্ন লিঙ্গ এর সকল মানুষের জন্য সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্টে সমান অধিকার সুযোগ দায়িত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। লিঙ্গের ভিত্তিতে কোন বৈষম্য না রেখে সবার ব্যক্তিগত দক্ষতা ও বিকাশ অর্জনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া। সকল প্রকার পিছিয়ে পড়া, শোষণ ও বৈষম্য থেকে নারী সমাজের মুক্তি ও নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা-ই হলো বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্দেশ্য। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশ্যই উদ্দেশ্য সফল হবে।