মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগার থেকে মুক্তি পেলে সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না। ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি একথা জানিয়েছেন।
তার এই বক্তব্যকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইমরানের দলের বৈরি সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ায় পর পিটিআই এর পক্ষ থেকে এমন বক্তব্যকে দলটির অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বহুদিন ধরেই তিক্ত। ২০১৮ সালে পিটিআই ক্ষমতায় আসার পর মনে করা হয়েছিল সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই তারা সরকার গঠন করেছে।
তবে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে।
২০২৩ সালে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার সমর্থকরা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। ইমরান খান তখন তার সরকারের পতনের পেছনে সামরিক বাহিনীর জড়িত থাকার সরাসরি অভিযোগ তোলেন।
ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিটিআই সমর্থকরা পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং কোর কমান্ডারের বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে এবং পিটিআই-এর ওপর কঠোর দমনপীড়ন চালায়। দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বহু শীর্ষ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হন।
সেই তিক্ত পটভূমির পর গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দলের সম্প্রীতি গড়ে তোলার এখন পর্যন্ত অন্যতম জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ইমরান খানকে ‘মহানুভাব’ অভিহিত করে বুখারি বলেন, “ইমরান খান যদি আগামীকালই মুক্তি পান, তাহলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু তিনি করবেন না।”
তিনি বলেন, “এর মানে আপনাকে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে হবে তা নয়। দেশের ভালর জন্য নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, নিজের যন্ত্রণা দমন করতে হয়।”
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
পিটিআই- এর মুখপাত্র বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, হাসপাতালের বাইরে দলের নেতা-কর্মীদের জমায়েত না করার বিষয়ে আদালতের দেওয়া নির্দেশ মেনে চলবে পিটিআই।
যদিও বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়নি। তবে ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সামরিক বাহিনী ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ