মাসুদ আজহার ইস্যুতে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের
জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘গিমিক’ এবং ‘ভুয়ো ঘোষণা’ বলে তীব্র আক্রমণ করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু ঘোষণা নয়, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের প্রধানের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ করতে হবে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাদের মোস্ট-ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় মাসুদ আজহারের পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়েছে। আগে তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিয়ে গ্রেফতারে সহায়তা করলে ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা। অর্থাৎ পুরস্কার বাড়ানো হয়েছে আরও ২০ লক্ষ টাকা।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের তরফে এই ধরনের ‘গিমিক’ নতুন কিছু নয়। তাঁর কথায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা আগেও দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক কোনও রাষ্ট্র এই ধরনের ভুয়ো ঘোষণা করলে তার ফাঁপা চরিত্র সকলেই জানেন।” তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানকে ঘোষণা না করে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ করতে হবে।
পাকিস্তান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান বর্তমানে তাদের দেশে নেই এবং আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত ছ’মাসের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মাসুদ আজহার পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশেই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের কাছে মাসুদ আজহার বহু সন্ত্রাসবাদী হামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার সঙ্গে তাঁর সংগঠনের যোগ রয়েছে বলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে। ওই হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।
অক্টোবরে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, ঋওঅ-র ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এ আজহারের নাম রাখা এবং পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানোর মাধ্যমে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে—এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ঋঅঞঋ-এর নজরদারি বা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়া এড়ানোর লক্ষ্য থাকতে পারে।
এর আগে ‘অপারেশন সিঁন্দুর’-এর সময়ও মাসুদ আজহারের জইশ-ই-মহম্মদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছিল ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে মার্কাজ সুবহানাল্লাহ ধ্বংস করা হয়। ওই ঘাঁটিকে জইশের প্রধান প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শ প্রচারের কেন্দ্র এবং অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন