আমেরিকায় নির্বাচনের আগেই সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা ট্রাম্প প্রশাসনের!
আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা ট্রাম্প প্রশাসনের। প্রচলিত গধরষ-রহ ঠড়ঃরহম বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ বার সেই প্রস্তাবিই কঠোর বিধিই খারিজ হয়ে গেল মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলি প্রচলিত নিয়ম মেনেই ডাকযোগে ব্যালটের ভোট দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তেমনটাই জানিয়েছে।
ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আমেরিকার ভোটপর্ব। যেখানে মোট ভোটগ্রহণ এক-তৃতীয়াংশ ডাকযোগেই করা হয়। নির্বাচনের প্রাক পর্বের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ট্রাম্পের আইনি পরাজয় হিসাবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও কোর্টের নির্দেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিন কোর্টের এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করেন বিচারক স্যামুয়েল অ্যা লিটো ও ক্লারেন্স থমাস। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তবে বিচারপতি বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানো জানান, বর্তমান নির্বাচনের জন্য এই নির্দেশ বহাল থাকলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সমস্ত রাজ্যকে ডাক ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট একটি খাম ব্যবহারের দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, অনলাইন পোর্টালে যোগ্য ভোটারদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে উল্লিখিত ছিল, নিয়মভঙ্গ করলে ডাক বিভাগ ব্যালট সরবরাহে অসম্মতিও জানাতে পারে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, ভোটের কয়েক সপ্তাহ আগে এত বড় পরিবর্তন আনা বাস্তবে অসম্ভব। এ ছাড়া, পোর্টালে বারকোড ভুলের কারণে লক্ষ লক্ষ বৈধ ব্যালোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ভোটে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার বজায় রাখতেই এই প্রস্তাব। তবে ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ও ভোটাধিকার রক্ষা সংস্থাগুলি এর ব্যাপক বিরোধিতা করে। ‘লিগ অফ উইমেন ভোটারস’-এর প্রধান সেলিনা স্টুয়ার্ট এই পদক্ষেপকে নির্বাচনে বানচাল করার চক্রান্ত বলে তোপ দাগেন।
উল্লেখ্য, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ১ কোটি মেল ব্যালেটের মধ্যে মাত্র ৪টি জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। যা ‘মেল ব্যালট’-এ ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ্কে কার্যত ভিত্তিহীন প্রমাণিত করে। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রচলিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে বলে স্বস্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন