বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

সৌদি আরবে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া কি আসলেই অপরাধ, কী বলছে আইন?

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৮ অপরাহ্ন
সৌদি আরবে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া কি আসলেই অপরাধ, কী বলছে আইন?
সৌদি আরবের পতাকা/ ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সৌদি আরবে প্রকাশ্যে ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে দেশটির সামাজিক রীতিনীতি ও জনশালীনতা-সংক্রান্ত বিধি মেনে চলতে হয়। জনসমক্ষে চুমু খাওয়ার মতো আচরণ পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে পারে।


তবে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি কী বা কত রিয়াল জরিমানা হবে, তা উল্লেখ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিধির নির্দিষ্ট ধারা ও অপরাধের শ্রেণি যাচাই করা জরুরি।


সৌদি আরবের জনশালীনতা আইন কী বলে?

সৌদি আরবে ‘পাবলিক ডিসেন্সি রেগুলেশনস’ বা জনশালীনতা বিধি ২০১৯ সালে কার্যকর হয়। দেশটির সরকারি আইনি নথি অনুযায়ী, জনসমক্ষে চলাফেরা করা সব ব্যক্তির জন্য এ বিধি প্রযোজ্য। অর্থাৎ সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক বা অভিবাসী, সবাইকেই এই আইন মেনে চলতে হয়।


বিধিতে জনসমক্ষে সৌদি আরবের প্রচলিত মূল্যবোধ, রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া জনসমক্ষে অন্যদের ক্ষতি করে, ভয় দেখায় বা বিপদে ফেলে—এমন আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


কত রিয়াল জরিমানা হতে পারে?

সৌদি আরবের জনশালীনতা বিধির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ এক বছরের মধ্যে আবার করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে সব ধরনের আচরণের জন্য একই অংকের জরিমানা প্রযোজ্য নয়।


সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত জরিমানার তালিকায় যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা অশালীন আচরণের জন্য প্রথমবার তিন হাজার রিয়াল এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ছয় হাজার রিয়াল জরিমানার কথা উল্লেখ রয়েছে।


গ্রেফতার ও কারাদণ্ড

পরিস্থিতি এবং স্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করে (যেমন অতি রক্ষণশীল এলাকা বা ধর্মীয় স্থান) পুলিশ চাইলে অভিযুক্তদের আটক করতে পারে এবং পরবর্তীতে আদালত সংক্ষিপ্ত কারাদণ্ড, বেত্রাঘাত বা দেশত্যাগের (উবঢ়ড়ৎঃধঃরড়হ) নির্দেশ দিতে পারেন।


পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা

সৌদি আরবে ভ্রমণকারী পর্যটক, প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জনসমক্ষে আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে জনবহুল স্থান, বিপণিবিতান, পার্ক ও পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় নিয়ম ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।


কোনো আচরণ নিয়ে অভিযোগ বা আইনি জটিলতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

তবে সৌদি আরবে ভ্রমণের আগে দেশটির জনশালীনতা-সংক্রান্ত বিধি সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং স্থানীয় আইন মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সৌদি সরকার, জাগোনিউজ