রাজশাহীতে শিশুদের ‘অলস চোখ’ নির্ণয় কর্মসূচির উদ্বোধন
‘টাকার অভাবে একজন মানুষও যেন অন্ধত্বকে বরণ না করে’ এই মতবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, রাজশাহী শাখা দীর্ঘদিন যাবৎ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচির আওতায় সমিতি পরিচালিত রাজশাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে ০৬-১২ বছর বয়সি শিশু কিশোরদের অলস চোখ পরীক্ষা করে তাদেরকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং রাজশাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অনারারি চিফ কনসালট্যান্ট ডা, এম,বি,জামান।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম। সমিতির চেয়ারম্যান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলাম ফিকশন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মহতী আয়োজনে ভারচ্যুয়ালী যোগ দেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ দা, মো: আয়াজ উদ্দিন আয়াজ। উপস্থিত ছিলেন অন্যতম উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক শফিকুল আলম ভোঁতা, সমিতির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান মুখলেসুর রহমান, শাহ জাকি, আবু হেনা মুস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক মুরতজা রেজা কোরাইশী মানিক, কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মনসুর, নির্বাহী সদস্য জাহাঙ্গীর আব্দুর রাজ্জাক, আজীবন সদস্য খালেদ সর্দার, বেগম নাজমুন নাহার লাকী প্রমুখ।
এখন থেকে প্রতি মঙ্গলবার শিশু কিশোরদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী জেলার ০৬-১২ বছর বয়সি শিশু কিশোররা এই চিকিৎসা সেবা পেতেই থাকবে। শতকরা ৪ ভাগ শিশু এই অলস চোখ রোগে আক্রান্ত থাকে, তাদেরকে এই সময়ে চিকিৎসা দেওয়া না হলে ধীরে ধীরে তারা অন্ধত্বকে বরন করে নেবে আর এই কারণে রাজশাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা, আয়াজ উদ্দিন আয়াজ এর পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচিকে সফল করতে ডা,এম,বি জামান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজ করছেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আবেদীন টুবলু। তাকে সহায়তা করেন সঞ্জীব পান্ডে। উল্লেখ্য, প্রতি মঙ্গলবার এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং এই লক্ষ্যে সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।