নাটোর ও বাগমারায় সড়কে পাঁচজন নিহত

নাটোর ও বাগমারা প্রতিনিধি:
নাটোর সদর ও সিংড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়াও বাগমারা উপজেলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ও রোববার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হয়েছেন।
নাটোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ও মোটরসাইকেল ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে নাটোর বগুড়া মহাসড়কে সিংড়া উপজেলার বারইহাটি এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়। নিহতরা হলেন, সিংড়া উপজেলার বড় বারইহাটি গ্রামের তাইরদ্দির ছেলে আত্তারি মৃধা এবং খইরুদ্দিনের ছেলে মো. মোজা।
ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, বগুড়া থেকে নাটোরগামী জান্নাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক মোজা ও যাত্রী আত্তারি মৃধা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জান্নাত পরিবহনের বাসটি বড়াইগ্রামের রাজাপুর এলাকা থেকে জব্দ করে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
অপরদিকে রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কে হয়বতপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নাজিম উদ্দীন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিহত নাজিম উদ্দীন নাটোরের ৪ নম্বর লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নাটোর ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগমারায় ট্রাক ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ দুইজন নিহত ও শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেঁউখালী গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী খৈয়ম বেগম (৩৫) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫০)। এছাড়াও আহতরা হলো- চেঁউখালী গ্রামের ভ্যান চালক আক্কাস আলী (৫০), নিহত খৈয়ম বেগমের ছোট ছেলে ফখরুল ইসলাম (৫) এবং একই ইউনিয়নের সমষপাড়া গ্রামের মৃত করিম এর স্ত্রী পিয়ারি বেগম (৬০)।
নিহতদের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, নিহত খৈয়ম বেগম তাঁর পিতার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার পঁচামাড়িয়া থেকে দুই ছেলে কে নিয়ে ভ্যান যোগে স্বামীর বাড়ি চেঁউখালীতে ফিরছিলেন। আরেক নিহত শহিদুল ইসলাম তাহেরপুর ব্রীজ থেকে একই ভ্যান যোগে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন।
দূর্ঘটনায় আহত পিয়ারি বেগম জানান, তাহেরপুর থেকে রামরামা আসার সময় তীব্র বৃষ্টি হচ্ছিলো। রামরামা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান জব্বার সরকারের বাড়ির নিকটে আসার পর সামনে থেকে আসা একটি ট্রাক ভ্যানে ধাক্কা দেয়।এতে ঘটনাস্থলেই খৈয়ম বেগম ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে শহিদুল ইসলাম মৃত্যু বরণ করেন। ভ্যানে চালক সহ মোট ৬ জন যাত্রী ছিল।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার বলেন, ঘটনা জানার পর আমি নিহতদের বাড়িতে যাই এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করি।
তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সোহাইল রানা ২ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সাথে ঘাতক ট্রাকের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।