ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:মাতৃভাষা বাংলা বাঙালির জীবনে খরস্রোতা নদী আর শহিদ মিনার বাঙালির হিমালয়। ১৯৫২ সালের রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তার চাবিকাঠি। ১৯৪৭ পরবর্তী জাতীয় জীবনে সব গণজাগরণ, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনার মূলে জড়িয়ে আছে ফেব্রুয়ারি স্মৃতি। ৫২’-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনার মহাকাব্য। এটি কোনো সাধারণ সন, তারিখ নয়। এটি শোক, প্রেরণা, শপথ আর অঙ্গীকারের মিলিত স্রোতধারা। ২১-এর পথ ধরেই বাঙালি হেঁটেছিল স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার দিকে। পৃথিবীতে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে একমাত্র বাংলাদেশের মানুষ।

ভাষা আন্দোলনের ২১ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা বাংলার স্বীকৃতি আজ নিজের দেশের সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্প্রসারিত হয়েছে। আমাদের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের কাছে ফিরে যাওয়ার ফেব্রুয়ারি। রফিক, শফিক, সালাম, বরকত জব্বার, রিকশাচালক আউয়াল, কিশোর অলিউল্লাহসহ অনেকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের বীর। তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার, অধিকার ও স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেদীপ্যমান। ২১ ফেব্রুয়ারির ইতিহাস ছাত্র-জনতার ইতিহাস। এ ইতিহাসের নায়ক কিংবা মহানায়ক তারাই। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের জীবনে দিগন্তবিস্তারী প্লাবন ডেকে এনেছিল। বাংলা ভাষাকে প্রতিক্রিয়াশীলতা ও নির্মমতার আঘাত থেকে বাঁচানোর জন্য এক দেবদূত হিসেবে এসেছিল অমর একুশে।

তাই ভাষার দাবি অর্থাৎ বাঁচার দাবি, ভাষার আন্দোলন অর্থাৎ বাঁচার আন্দোলন। ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের চেতনার প্রথম সূর্যসিঁড়ি। ২১ ফেব্রুয়ারি কেবল ভাষার লড়াই নয়, তা আমাদের জাতীয় চেতনার উর্বর উৎব। বাঙালি জাতির জীবনে তাই ভাষা আন্দোলন দুর্জয় সংগ্রামী চেতনার প্রসূতি। একুশ মানে নিজেকে চেনা। একুশের চেতনার মূল জায়গায় শুধু ভাষার দাবি ছিল না। এ দাবি ছিল গণতান্ত্রিক দাবি। আর এ গণতান্ত্রিক দাবির ধারাবাহিকতায় আন্দোলন হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, একটা নতুন রাষ্ট্র হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যুত্থান তাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আমরা বাংলা ভাষার অধিকার অর্জন করেছি কিন্তু ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে পারিনি। দুঃখের বিষয় ভাষার কারণে এত প্রাণের বিসর্জনের পরেও মাতৃভাষা বাংলা নিজ দেশে যেন অনেকটা উপেক্ষিত!

ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আর ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এক নয়। তাই বলে ইংরেজি চর্চা বর্জন করতে হবে তা কিন্তু নয়, বরং ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রেও ইংরেজি জানা যতটা না প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বাংলা জানা। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা যেন ২১ ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক কিংবা ফেব্রুয়ারি মাসকেন্দ্রিক না হয়। সুতরাং মাতৃভাষা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নিতে হবে।
সূত্র : প্রফেসর মো. আবু নসর : সাবেক অধ্যক্ষ এর নিবন্ধ থেকে

Exit mobile version