রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ মামুনুল হকের

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ মামুনুল হকের
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মামুনুল হক। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

ঢাকা-১৩ আসনে ভোট গণনার সময় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হক বলেন, “কোনোভাবেই ইঞ্জিনিয়ারিং রোধ করা যায়নি।” শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অভিযোগ করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।


মামুনুল হক বলেন, “এবার সহিংসতা মুক্ত নির্বাচন হয়েছে। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ ছিলো। ভোটগ্রহণকালীন সময়টা মোটামুটি শান্তিপ্রিয় ছিলো। কিন্তু, গণনার সময় যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে সেটাকে কোনোভাবেই রোধ করা যায়নি। সেটা খুব পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট।”


তিনি বলেন, “সারাদিন স্বচ্ছ পরিবেশ দেখানো হয়েছে, পরিবেশ শান্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু, গণনার সময় যা করার তাই করে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে গণমতের প্রকৃত প্রতিফলন এই নির্বাচনের মাধ্যমে হয়নি।”


ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এ প্রার্থী বলেন, “অনেকগুলো কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে আমাদের পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।


এছাড়া আমাদের পোলিং এজেন্টদের নানারকম কথাবার্তা বলে অনেক স্বাক্ষর আগেই নিয়ে নিয়েছেন। অনেকগুলো রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা করা আছে, টেম্পারিং করা আছে, ওভার রাইটিং করা আছে। সেখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আগে একটা অঙ্ক ছিলো, পরে একটা অঙ্ক বসানো হয়েছে।


সবগুলো জায়গায় দেখা যাচ্ছে একটা প্রার্থীর জায়গায় এ কাটাছেঁড়া হয়েছে। এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় ওই বিশেষ মার্কার ভোট দেখানোর জন্য এমনটি করা হয়েছে।”


মামুনুল হক বলেন, “ঢাকা-১৩ আসনের যে ব্যালট পেপার ছিলো, সেটির দ্বিতীয় প্যারার সর্বশেষ রো খালি ছিলো। স্বাভাবিকভাবে অনেকেই মনে করেছে, খালি জায়গা প্রথম প্যারার সর্বশেষ যে প্রার্থীর নাম এটি তার জন্য বরাদ্দ। কারণ, মাঝখানে সামান্য একটা দাগ ছিলো।


অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই ওই খালি জায়গায় সিল মেরেছে। এরকম চার হাজার ৩৮১টি ভোট বাতিল হয়েছে। এই রকম ব্যালট অনেক আসনেই ছিলো। কিন্তু, তাদেরটা বাতিল করা হয়নি। তাহলে, আমাদের ভোট কেন বাতিল করা হলো। এটা হলো আমাদের মূল অভিযোগ।”


গণনার সময় কেন্দ্রে কেন অভিযোগ করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সেখানে অভিযোগ করিনি কারণ আমাদের অনেক পোলিং এজেন্ট সেভাবে কথা বলতে পারে নাই। আমাদেরকেও বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।


আমাকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে সাড়ে ৪টার পর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিলো, সেখানে ব্যাপকভাবে অনিয়ম হচ্ছে। আমাদের পোলিং এজেন্টদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।” 


লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাইনি এমনটি জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের এ প্রার্থী বলেন, “এর ফলে আমরাও কেন্দ্রগুলোতে অভিযোগ করতে পারিনি। আমরা পরবর্তীতে ইসিতে এসে অভিযোগ করেছি। এখনও আমরা আমাদের অভিযোগপত্র দায়ের করলাম। আমরা সর্বশেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যেতে চাই।”


তথ্যসূত্র: বাংলাটিপ্রবিউন