রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

সম্পত্তির বিরোধে বাবাকে দাফনে বাধা, ৩০ ঘণ্টা পর হল সমঝোতা

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ন
সম্পত্তির বিরোধে বাবাকে দাফনে বাধা, ৩০ ঘণ্টা পর হল সমঝোতা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেয় সন্তানরা। গ্রামবাসীর সালিশে লিখিত সমঝোতার ভিত্তিতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন সম্পন্ন হয়।


ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়।


গ্রামবাসী জানান, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার দুপুরে জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছেলেরা তাতে বাধ সাধে। পরে জটিলতা নিরসন করে বুধবার মধ্যরাতে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের লোকজন জানান, আজিজার রহমান দুটি বিয়ে করেন। দুইপক্ষের সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা আগে থেকেই ছিল।


নাগেশ্বরী পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রহমান বলেন, “জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। দীর্ঘদিনে বিরোধ না মেটায় আজিজার রহমানের মৃত্যুর পর প্রথম পক্ষের সন্তান আব্দুল হাকিম লাশ দাফনে আপত্তি জানান।”


স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আজিজার রহমানের প্রথম পক্ষের সন্তান আব্দুল হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে লাশ দাফনে বাধা দেন। ফলে সকাল ১১টার নির্ধারিত জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির উঠানে রাখা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।


দিনভর স্থানীয়রা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।


স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জয়নাল আলী, আব্দুল মালেক বলেন, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়- বাড়িভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে।


পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় বাবার লাশ দাফনে সম্মতি দেন ছেলে।


নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামাল বলেন, ঘটনা আগে কেউ জানায়নি। ঘটনা মীমাংসা ও লাশ দাফনের পর বিষয়টি অবহিত হই। অবশ্য এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ