মান্দায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, শিক্ষকেরা লাপাত্তা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি ক্বওমি মাদ্রাসার ভেতরে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে সাকিব হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মান্দা থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহত রফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া ক্বওমি মাদ্রাসা চত্বরে চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে তাকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে সেখানেই ফেলে রাখা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক সাব্বির হোসেন গাছের ডাল দিয়ে রফিকুল ইসলামকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। পরে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, তুহিন আলী, ওমর ফারুক ও মোর্শেদ আলম ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকরা সেখান থেকে চলে যান। এতে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা জামে মসজিদে নামাজ আদায়ে স্থানীয় মুসল্লিরা সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোরে আমি মাদ্রাসার ভেতরের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়েছি। অথচ ভেতরে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।’
জিনারপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কেউ চুরি করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে পিটিয়ে হত্যা করার কোনো বিধান ইসলাম ধর্মেও নেই।’
এদিকে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী সাকিব হোসেন অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর দিনই তিনি আদালত থেকে জামিন পান। তিনি বলেন, ‘রাতে আমাকে থানায় নিয়ে এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। সেখানে কী লেখা ছিল সেটাও আমাকে পড়ে শোনানো হয়নি।’
তবে এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, বাদীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।