শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
মোবাইল কোর্টের অভিযানে সীমিত পরিমাণে বিক্রি

নাটোর তেল পাম্পগুলোতে দিনভর পেট্টোল, অকটেন ও ডিজেল বন্ধ

নাটোর প্রতিনিধি ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
নাটোর তেল পাম্পগুলোতে দিনভর পেট্টোল, অকটেন ও ডিজেল বন্ধ

উত্তরের জেলা নাটোর তেল পাম্পগুলোতে পেট্টোল, অকটেন ও ডিজেল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে জেলার প্রায় সব তেল পাম্পগুলো সকাল থেকে তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেয়। 


চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এবং সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ী বন্দরে ডিপু থেকে ঠিকমত তেল সরবারাহ না থাকায় এসব পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। 


গ্রাহকরা বলছেন, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর  তথ্য অনুযায়ী, নাটোর শহরে ১৬টি, জেলায় ৩২-৩৫টি এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে  বিষেশ করে পেট্টোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে হঠাৎ করেই তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।


ডিজেল তেল সিমিত আকারে পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের জ¦ালানি তীব্র সংকট লক্ষ করা গেছে। শনিবার সকাল থেকে শহরের উত্তারা ফিলিং ষ্টেশন, গনি ফিলিং ষ্টেশন, আনোয়ারা ফিলিং ষ্টেশন, রহমান ফিলিং ষ্টেশন,, এফএনএফ ফিলিং ষ্টেশন, ফ্রেন্স ফিলিং ষ্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সবাই পাম্মে  তেল নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছে।  কেউ কেউ একটু সুযোগ পেলেই  মোটরসাইকেল  এর ট্যাংকি, জার্কিন ভর্তি করে তেল নিচ্ছেন।    


তেল সংকটের বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নাটোরে প্রকট  হয়। শুক্র-শনিবার এই দুদিন  সরকারি অফিস বন্ধ  থাকায় শনিবার দিনভর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন  তেল সরবারাহ বন্ধ করে দেয়।  পরে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ আদনান এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফরহাদ আহমেদ এর নেতৃত্বে বিকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালানা করা হলে, মোটরসাইকেল চালকদের তেল দেওয়া শুরু হয়। তবে চাহিদামতো তেল দিতে না পারায় কোনো কোনো স্টেশনে ১শ সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। ফলে সকাল থেকেই নাটোর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। 


শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দিঘাপতিয়া উত্তারা ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ও মোবাইল কোর্টের বিচারক ফরহাদ আহমেদ ওই ফিলিং ষ্টেশন এর তেল চেক করে তেল মজুদ থাকার সন্ধান পান। এসময় মোটরসাইকেল চালক এবং বৃষকদের মধ্যে তেল বিক্রয় এর নির্দেশ দেন।  


শহরের হরিশপুর এলাকার আনোয়ারা ও গণি তেল পাম্প বন্ধ দেখা যায়। এসময় ওই পাম্প এর ম্যানেজার ও কর্মচারীরা জানান, তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় দুপুর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।


দিঘাপতিয়া এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন জানান, গাড়িতে অকটেন তুলতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। ফিলিং স্টেশন থেকে বলা হয়েছে রোববার পাওয়া যাবে। 


রাজকীয় পরিহবনের ম্যানেজার রুবেল হোসেন বলেন তারা গণি ফিলিং ষ্টেশন থেকে নিয়োমিত ডিজেল নেয় এখন পর্যন্ত তাদের কোন সমস্য হয় নাই। 


বঙ্গজল এলাকার  মোহাম্মাদ আলী জানান, শনিবার দুপুরের আগে শহরের মাদ্রাসা মোড়, বড় হরিশপুর এলাকায় ৫টি তেল পাম্পে ঘুরেও তেল পায়নি। তার সাথে থাকা শিশু কণ্যা নিয়ে বিপাকে পরায় একজনের সামান্য তেল সহায়তা পেয়ে কোনমতে তিনি বাড়ী ফিরেন। 


বড় হরিশপুর এলাকার গনি ফিলিং স্টেশনে  শ্ওান বলেন, পেট্টোল চাহিদামত পাচ্ছি না।  শুক্র-শনিবার দুদিন অফিস গুলো বন্ধ থাকার কারনে এমন হয়েছে। 


পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাটোরের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোও গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দিতে পারছে না।  


তিনি জানান, তার মেগনা গ্রুপের রাজশাহী জোনের এজিএম তাকেও ফোন করে করে পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। কেউ নিয়মিত বাইক ব্যবহার না করলেও অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। আবার যারা বেশি বাইক চালান তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে ট্যাংকি ভরে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এতে সংকট আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।